home only

.
কথিত যুদ্ধাপরাধের বিচার: বিশেষজ্ঞরা কি বলেন?

মোবাইল ফোন চার্জ মূত্র দিয়ে!

প্রস্রাব বা মূত্রকে বোধ হয় আর ঘেন্না করা ঠিক হবে না। কারণ, অদূর ভবিষ্যতে হয়ত আমার-আপনার অতি প্রয়োজনীয় মোবাইল ফোন বা অন্য যে কোনো ইলেকট্রিক গেজেট চার্জ করতে দরকার পড়বে মূত্রের। যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানীরা এমন কথাই বলছেন।
হ্যাঁ, ব্রিটেনের ব্রিস্টল ইউনিভার্সিটি আর রোবোটিক ল্যাবরেটরির বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি ঠিক একথাটাই জানিয়েছেন। তারা মূত্র দিয়ে মোবাইল ফোন চার্জ করতে সমর্থ হয়েছেন, যেটা দিয়ে স্বল্প পরিসরে খুদে বার্তা পাঠানো, ইন্টারনেটে ব্রাউজিং এবং সংক্ষিপ্ত কল করা গেছে। রয়েল সোসাইটি অব ক্যামেস্ট্রির জার্নাল ‘ফিজিক্যাল কেমিস্ট্র ক্যামিক্যাল ফিজিক্স’-এ গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে। গবেষকরা আশা করছেন, ভবিষ্যতে একটি ফোনসেট পুরো চার্জ করাসহ দৈনন্দিন কাজে ব্যবহৃত যে কোনো ইলেকট্রনিক গেজেটে চার্জ দেয়ার মতো পদ্ধতিও বের করা সম্ভব হবে এভাবে। গবেষক দলের সদস্য লোনিস লেরোপুলাস বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, আমরা আসলে এমন কিছু দিয়ে চার্জ দেয়ার পদ্ধতি বের করতে চেয়েছিলাম, যেটা কোনোদিনই শেষ হবে না।
বিজ্ঞানীরা কার্বন ফাইবার অ্যানোডের মধ্যে ব্যাকটেরিয়ার জন্ম দিয়ে সেগুলোকে সিরামিকের তৈরি একটা সিলিন্ডারে রেখে দেন। এরপর সেখানে মূত্র প্রবেশ করালে ব্যাকটেরিয়া মূত্রের মধ্যে থাকা রাসায়নিক উপাদানগুলো ভেঙে ফেলে। এ সময় যে বিদ্যুত্ উত্পন্ন হয় সেটা ক্যাপাসিটরে জমা করা হয়। আর তার মাধ্যমেই এটা পরবর্তীতে অনেকটা ব্যাটারির মতো কাজ করার শক্তি সঞ্চয় করে। সূত্র : ডিডব্লিউ

সৌরজগতের বাইরে নীল গ্রহের সন্ধান

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এই প্রথম সৌরজগতের বাইরেও একটি নীল গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন। সংবাদমাধ্যম ইয়াহু নিউজ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, নীল গ্রহটি পৃথিবী থেকে প্রায় ৬৩ আলোকবর্ষ দূরে। হাবল টেলিস্কোপে আবিষ্কৃত নীল গ্রহটির নাম এইচডি ১৮৯৭৩৩বি।
এ প্রসঙ্গে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব এক্সেটারের গবেষক ফ্রেডরিক পন্ট জানান, এবারই সত্যিকার অর্থে কোনো গ্রহের রঙ বের করা সম্ভব হয়েছে। এর আগে কখনও আমাদের সৌরজগতের বাইরের কোনো গ্রহের ক্ষেত্রে এমন সাফল্য অর্জিত হয়নি।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, গ্রহের অস্পষ্ট যৌগিক পদার্থের বিক্ষিপ্ত নীল রঙ বায়ুমণ্ডলে আলোড়ন সৃষ্টি করে। ফলে গ্রহটিকে নীল রঙের দেখায়। নতুন আবিষ্কৃত গ্রহটির রঙ নির্ণয় করতে গবেষক দলটি ওই গ্রহপৃষ্ঠে যে নক্ষত্রের আলো প্রতিফলিত হয়, তা পরিমাপ করেছিলেন।
গ্রহ পর্যবেক্ষণ বিষয়ে পন্ট বলেছেন, পরোক্ষভাবে গ্রহ পর্যবেক্ষণের জন্য মানুষ নতুন প্রক্রিয়া বের করছে। এ জন্যই আমি নিশ্চিত যে, এ প্রযুক্তিটি আরও উন্নত হবে। সূত্র : বিডিনিউজ

অনলাইনে কনভার্ট করুন ছবি, অডিও, ভিডিও সহ অনেক কিছু

online-convert.com   সাইটে গিয়ে ছবি, ডকুমেন্ট, অডিও, ভিডিও ইত্যাদি অসংখ্য ফরম্যাটে কনভার্ট করা যায়।
অপশন আছে দু’টি। চাইলে আপনার কম্পিউটার থেকে একটি ফাইল আপলোড করতে পারেন। অথবা ফাইলের url বা ঠিকানাও দিতে পারেন। এরপর নিচে কিছু ঐচ্ছিক অপশন আছে।
এগুলো পূরণ না করলেও চলবে। আগেই ঠিক করতে হবে কোন ফরম্যাটে রূপান্তর করবেন। এরপর ব্রাউজ করলে বা লিংক বসানোর পর Convert file লেখায় ক্লিক করলে ১ মিনিটের কম সময়েই এটি রূপান্তর হয়ে ডাউনলোড করার পপআপ দেখাবে। ব্যাস।

‘তায়েফ’-এর পার্বত্য অধিত্যকায় কিছু সময়



ঐতিহাসিক নগরী তায়েফ পরিভ্রমণের আকাঙ্ক্ষা ছিল দীর্ঘদিনের। ১৯৮৫ সালে হজ উপলক্ষে সৌদি আরব গিয়েও তায়েফ যাওয়া হয়নি। ২৬ বছর পর ওমরা পালনের উদ্দেশে মক্কা পৌঁছে সিদ্ধান্ত নিলাম, যে কোনো উপায়ে তায়েফ যেতে হবে। জেদ্দা-মক্কা-মদিনার বাইরে হাজীদের যাওয়া আইনত নিষিদ্ধ। পথে পথে রয়েছে চেকপোস্ট। পৃথিবীর কোনো দেশের ভিসা পাওয়া গেলে একজন পর্যটকের সে দেশের যে কোনো স্থান পরিভ্রমণ করতে সরকারি বাধা থাকে না। ব্যতিক্রম কেবল সৌদি আরব, মিয়ানমার অথবা এ ধরনের দু’চারটি রাষ্ট্র। হজ ও ওমরা পালনকারীদের জন্য সৌদি আরবের সব শহরে যাওয়া-আসার সুযোগ অবারিত থাকলে বহু ঐতিহাসিক স্থান দেখার সুযোগ যেমন সৃষ্টি হতো, তেমনি বৈদেশিক মুদ্রা আয়েরও ব্যবস্থা হতো। অবশ্য ভিজিট ভিসা থাকলে সৌদি আরবের যে কোনো স্থানে যেতে বাধা নেই। সাধারণ পর্যটকদের পক্ষে ভিজিট ভিসা জোগাড় করা রীতিমত কঠিন।

আমার অনুরোধে রিয়াদের বাংলাদেশ দূতাবাসে কর্মরত অনুবাদক অনুজপ্রতিম হাফিয সাদিক হোসাইন দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি স্বাক্ষরিত একটি অনুরোধপত্র এনে দিলে আমি অনেকটা স্বস্তি বোধ করি। দৈনিক কয়েক হাজার যানবাহন তায়েফ-মক্কা-তায়েফ মহাসড়কে চলাচল করে থাকে। নির্ধারিত চেকপোস্টে গাড়ির গতি শ্লথ করা বাধ্যতামূলক। দায়িত্বরত কর্মকর্তারা ইচ্ছে করলে সন্দেহভাজন গাড়ি দাঁড় করিয়ে যাত্রীদের আকামা, ভিসা, পাসপোর্টসহ সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পরীক্ষা করে দেখেন অথবা হাত নেড়ে চলে যাওয়ার ইঙ্গিত দেন। দুপুরে কড়াকড়ি তুলনামূলক কম। সম্ভবত গ্রীষ্মের দাবদাহের তীব্রতা, দ্বিপ্রহরের খাবার গ্রহণের তাড়া এবং নামাজের প্রস্তুতির কারণে কিছুটা শৈথিল্য দেখা দেয়। গাড়িতে শিশু ও মহিলা থাকলে অনেক সময় বিশেষ ছাড় পাওয়া যায়। সৌভাগ্য বলতে হবে, সে সুযোগটুকু আমরা পেয়েছি।

দিনটি ছিল জুমাবার। ছুটির দিন হওয়ায় গাড়ির চলাচল একটু বেশি। কাবাগৃহে জুমার নামাজ আদায়ের অব্যবহিত পর দু’টি গাড়ি নিয়ে আমরা তায়েফের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করি। ছোট ভাই হাফিয সাদিক হোসাইন, তাঁর স্ত্রী আশিকা আনসারী, মেয়ে আফিফা, ছেলে আবরার, ফুফাতো ভাই মাওলানা নু’মান, ছোট ভাই মাওলানা জাহিদ হোসেনের স্ত্রী কিশওয়ার হাসিনা, মেয়ে আরিয, ইমতিনান, আফনান ও ছেলে আহমদ ছিল আমার সফরসঙ্গী। আমি ছাড়া সফরসঙ্গীদের সবার আকামা থাকায় তারা প্রত্যেকে ছিল উত্ফুল্ল ও ফুরফুরে মেজাজে। চেকপোস্টের অজানা ভয়ে কাঁপছিল আমার তনুমন। অনেক সময় সৌদি পুলিশ অনুরোধপত্রের তোয়াক্কা করে না। নানা কারণে বাংলাদেশীদের তারা সম্মানের চোখে দেখে না। ধীর লয়ে আমাদের গাড়ি চেকপোস্টের অর্গল যে মাত্র পেরিয়ে গেল, আমি যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম। তায়েফ ভ্রমণের ইচ্ছে পূরণ হতে যাচ্ছে।

জানালার কাচ দিয়ে মক্কা-তায়েফ মহাসড়কের দু’পাশের বিস্তীর্ণ পর্বত, কন্দর ও উপত্যকার দৃশ্য উপভোগ করতে থাকি। আল্লাহ তায়ালার কী লীলাখেলা! গাছপালাবিহীন পর্বতমালা মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। আমাদের বহনকারী ল্যান্ডক্রুজার ক্রমান্বয়ে পাহাড়ের কোলঘেঁষে উপরে উঠতে লাগল। সৌদি আরব সরকার কঠিন পাহাড়ের গা কেটে দ্বিমুখী রাস্তা (Two way traffic) তৈরি করেছে, যাতে সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়ানো যায়। একেক পাহাড়ের চূড়া থেকে অন্য পাহাড়ের চূড়া পর্যন্ত রয়েছে বেশ কটি ওভারব্রিজ। ১৯৬৫ সালে বাদশাহ ফয়সাল এ পার্বত্য সড়ক নির্মাণ করেন। পার্বত্য পথে রয়েছে ৯৩টি বাঁক। সড়কের নির্মাণশৈলী আধুনিক ও মনোমুগ্ধকর।

প্রস্তরপূর্ণ সমতল ভূমি থেকে সর্পিল পথে যতই উপরে যাচ্ছি, শিহরিত হচ্ছি। নিচের দিকে তাকালে রক্ত হিম হয়ে যায়। পাহাড়ি পথের বাঁকে বাঁকে প্রলম্বিত কেশরধারী বানরের ঝাঁক চোখে পড়ার মতো।

সাইনবোর্ডে লেখা আছে (Beware of Monkey) ‘বানর থেকে সাবধান’। পাহাড়ের কোলে গড়ে ওঠা এক ধরনের উদ্ভিজ্জ ফলমূল তাদের একমাত্র খাবার। এসব বন্যখাদ্য অপ্রতুল বলেই হয়তো অনেক সময় তারা লোকালয়ে অথবা পর্যটকদের ওপর হামলে পড়ে। শিশুদের হাতে রাখা খাবার অনেক সময় বানর ছোঁ মারতে পারে—এমন আশঙ্কাও উড়িয়ে দেয়া যায় না। এরই মধ্যে আমরা ‘আল হাদা’ নামের অধিত্যকায় উপনীত হয়েছি। মক্কার সমতল ভূমিতে যেখানে প্রচণ্ড গরম, আল হাদার পাহাড় চূড়ায় শীতল হাওয়ার পরশ। আল হাদা ভূমি থেকে ১৮৭৯ মিটার উচ্চতায় তায়েফ পর্বতমালায় অবস্থিত ছোট্ট শহর। নবাগত পর্যটকরা ব্যায়াম, সিঁড়ি আরোহণ অথবা ভারী দ্রব্যসামগ্রী বহনের সময় অক্সিজেন-স্বল্পতা অনুভব করে থাকেন।

তায়েফ মক্কা প্রশাসনিক প্রদেশের ঐতিহাসিক একটি শহর। সারওয়াত পর্বতমালা সংলগ্ন উপত্যকা থেকে এর উচ্চতা ৬.১৬৫ ফুট। ৫ লাখ জনঅধ্যুষিত তায়েফ আঙুর, আনার, গোলাপ ও মধু উত্পাদনের বিখ্যাত কৃষি অঞ্চল। প্রতি বছর গ্রীষ্ম মৌসুমের প্রচণ্ড দাবদাহে সৌদি কেন্দ্রীয় সরকারের কার্যক্রম তায়েফ থেকে পরিচালিত হয়। তায়েফের জনগোষ্ঠীর বিরাট অংশ হাম্বলি ও মালিকি মাজহাবের অনুসারী। বিভিন্ন আরব দেশ, তুরস্ক ও এশিয়ার বংশোদ্ভূত বেশ কিছু সংখ্যক বিদেশি জনগণও তায়েফে বসবাস করেন। তায়েফকে বলা হয় ‘হেজাজের বাগান’। তায়েফে রয়েছে একটি আধুনিক বিমানবন্দর। জেদ্দা, রিয়াদ এবং পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে নিয়মিত ফ্লাইট চলাচল করে। তায়েফ অঞ্চলের বেদুইনরা কঠোর পরিশ্রমী। শস্যচাষ ও পশুপালন তাদের মূল পেশা। সমতল ভূমি বেশ উর্বর। সৌদি আরবের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বতমালা ‘ইবরাহিম জাবল’ তায়েফ থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত পর্যটনের জন্য অত্যন্ত উপযোগী স্থান।

মক্কা থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত তায়েফ প্রাচীনকাল থেকে ধর্মীয় গুরুত্ব বহন করে আসছে। আইয়ামে জাহেলিয়া যুগের মানুষ তায়েফের নারী দেবী ‘লাত’ মূর্তির পূজা করত। সে যুগে এখানে বাস করত ছাকিফ গোত্র। উরওয়াহ ইবন মাসউদ, আবদ ইয়া লায়ল ইবন আমর, উসমান ইবন আবুল আস ছিলেন সে যুগের নামকরা গোত্র অধিপতি। ৬৩০ সালে তায়েফের কাছে সংঘটিত হয় রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নেতৃত্বে হুনায়েনের যুদ্ধ।

অনেক বিখ্যাত ব্যক্তি তায়েফে জন্মগ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে যিয়াদ বিন আবি সুফিয়ান (রা.), মুগিরা ইবন শো’বা (রা.), হাজ্জাজ ইবন ইউসুফ, আল মুখতার, ইরাকের বাদশাহ ফয়সাল, নায়িফ ইবন আবদুল আযিয, হজরত উসমান ইবন আফফান (রা.), মুতলাক হামিদ আল উতায়বী, ব্রুনাই দারুসসালামের তৃতীয় রাষ্ট্রপ্রধান সুলতান শরীফ আলী অন্যতম।

বহু বিখ্যাত ব্যক্তি জীবনের একটি অংশ তায়েফে কাটিয়েছেন। তাদের মধ্যে মুহাম্মদ ইবনে কাসিম, খোলাফায়ে রাশেদিনের তৃতীয় খলিফা হজরত উসমান ইবন আফফান (রা.), তুর্কি উসমানি খিলাফতের সংবিধান রচয়িতা আহমদ শফিক মিফহাত পাশা (১৮২২-১৮৮৪), মুহাম্মদ মুহসিন খান, হজরত আবদুল ইবন আববাস (রা.)। তায়েফ মানে প্রদক্ষিণকারী, তাওয়াফকারী। ছুটির দিনে এটা সর্বস্তরের মানুষের পর্যটন ও মিলনকেন্দ্র।

তায়েফ থেকে ৪০ কিলোমিটার উত্তরে রয়েছে প্রাক-ইসলামী যুগের ঐতিহাসিক স্থান, যেখানে বার্ষিক মেলা বসত। বিভিন্ন গোষ্ঠীর সর্দাররা রাজনৈতিক, সামাজিক ও বাণিজ্য বিষয়ে মতবিনিময় করতেন। এখানে গদ্য সাহিত্য ও কবিতা প্রতিযোগিতার আসর বসত। শ্রেষ্ঠ কবিতা পর্বতগাত্রে উত্কীর্ণ করে রাখা হতো। এখনও ব্যাসালটিক পাথরে এসব স্মৃতিচিহ্ন রক্ষিত আছে। এর পাশে অবস্থিত তুর্কি দুর্গ। এখানে বহু যুদ্ধ সংঘটিত হয়। বেশ কিছু কবরের চিহ্নও বিদ্যমান। কথিত আছে, ১৯১৭ সালে লরেন্স অব অ্যারাবিয়া এখানে যুদ্ধরত ছিলেন। আল হাদা ও শেরাটন হোটেলের মাঝখানে রয়েছে জীবন্ত বন্যপ্রাণী, পাখি ও বনজ-ফলদ গাছগাছালির সংগ্রহশালা। পর্বতচূড়া থেকে সূর্যাস্তের দৃশ্য বড়ই মনোহর।

এ তায়েফ শহরের সঙ্গে বিশ্বনবী হজরত মোহাম্মদ (সা.)-এর জীবনের এক বেদনাবিধুর স্মৃতি বিজড়িত। এখানে দশদিন অবস্থান করে তিনি আল্লাহর বাণী প্রচারে প্রয়াসী হন। কিন্তু বিপথগামী তায়েফবাসী প্রস্তর নিক্ষেপ করে তাঁকে শহর থেকে বিতাড়িত করে দেয়। অপমান ও লাঞ্ছনা সহ্য করেও তিনি তায়েফবাসীকে অভিসম্পাত করেননি।

আবু তালিবের মৃত্যুর পর রাসুলুুল্লাহ (সা.)-এর ওপর কুরাইশদের নির্যাতনের মাত্রা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পায়। আবু লাহাব ও অন্যান্য দুশমন মনে করল, তার ওপর চাচা আবু তালিবের অভিভাবকত্বের স্নেহছায়া উঠে গেছে। এখন তাঁকে রক্ষা করার কেউ নেই। নিন্দাবাদ ও নিগ্রহের মধ্যেও রাসুলুল্লাহ (সা.) দ্বীনি দাওয়াতের প্রয়াস অব্যাহত রাখেন আল্লাহ্ তায়ালার ওপর ভরসা রেখে। পরিবর্তিত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে রাসুলুল্লাহ (সা.) যায়দ ইবন হারিছাকে সঙ্গে নিয়ে তায়েফ রওনা হন। তায়েফের জনগণের অন্তরে ইসলামের দাওয়াত প্রভাব ফেলতে পারে—এ প্রত্যাশা নিয়ে তিনি ছাকিফ গোত্রের তিনজন প্রতাপশালী নেতার ঘরে উপস্থিত হন। তারা হচ্ছেন আবদু ইয়া লাইল, আবদু কালাল এবং হাবীব। মাতৃকুলের দিক থেকে তারা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আত্মীয়। তিনি তাদের সঙ্গে ইসলাম প্রচার এবং ইসলামের প্রতিপক্ষ শক্তির মোকাবিলায় তাদের সহায়তা কামনা করেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য, তারা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে নিতান্ত অভদ্র

ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করে বসে। প্রথম জন বলল, তোমাকে কি আল্লাহই পাঠিয়েছেন? দ্বিতীয় জন বলল, রাসুল বানানোর জন্য তোমাকে ছাড়া আল্লাহ আর কাউকে পাননি? তৃতীয় জন বলল, খোদার শপথ! তোমার সঙ্গে আমরা কথা বলব না; কারণ তোমার দাবি অনুযায়ী যদি তুমি সত্যিকার অর্থে আল্লাহর রাসুল হয়ে থাক, তা হলে সওয়াল-জওয়াব ও তর্ক-বিতর্কের জন্য আমরা ধ্বংস হয়ে যাব। আর যদি নবুয়তের মিথ্যা দাবিদার হও, তাহলে তোমার মতো মানুষের সঙ্গে আমাদের কথা বলা অনুচিত।

রাসুলুল্লাহ (সা.) তাদের বক্তব্য শুনে সম্যক বুঝতে পারেন যে, তায়েফের পরিস্থিতিও অনুকূল নয় এবং এখানে বেশিক্ষণ অবস্থান করা সমীচীন নয়। তিনি সেখান থেকে প্রত্যাবর্তনের সময় ছাকীফ গোত্রের দলপতিদের অনুরোধ করলেন, যেন তার এখানে আসার খবর গোপন রাখা হয়। কেননা কুরাইশরা যদি তার তায়েফ সফরের সংবাদ জানতে পারে, তা হলে নির্যাতনের মাত্রা আরও আশঙ্কাজনক পর্যায়ে উন্নীত হবে। উত্তরে দলপতিরা বলল, তোমার যেখানে ইচ্ছা চলে যেতে পার; তবে আমাদের শহরের চৌহদ্দির ভেতরে থাকতে পারবে না। অতঃপর তারা আল্লাহর রাসুলের পেছনে তাদের দাস ও সমাজের লুচ্চা-লোফারদের লেলিয়ে দেয়। তারা চিত্কার করে গালি দিতে লাগল। ইত্যবসরে রাসুলুল্লাহ ( সা.)-এর চলার পথের চারিদিকে লোক জমায়েত হয়ে গেল। প্রত্যেকে একযোগে তাঁর প্রতি পাথর ছুঁড়তে লাগল। প্রস্তরাঘাতের ধকল সইতে না পেরে তিনি যখন বসে পড়তেন, শত্রুরা হাত ধরে আবার দাঁড় করে দিত। এতে আঘাতের পর আঘাতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র দেহ থেকে ফিনকি দিয়ে রক্ত বের হতে থাকে। জুতাদ্বয় রক্তে ভরে যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বাঁচাতে গিয়ে যায়দ ইব্ন হারিছার মাথা কয়েক স্থানে ফেটে যায়। অবশেষে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁরা দু’জন নিকটবর্তী আঙুরের বাগানে আশ্রয় নেন। বাগানের মালিক ছিল উতবা ও শায়বা—ইসলামের প্রতি যাদের শত্রুতা ছিল সর্বজনবিদিত। কিছুক্ষণ পর ওই স্থান তিনি ত্যাগ করেন। এরই মধ্যে জিবরাইল (আ.)-এর নেতৃত্বে একদল ফেরেশতা এসে রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলেন, আপনি যদি হুকুম করেন, তাহলে এ অপরাধীদের দু’পাহাড়ের মাঝখানে রেখে আমরা পিষ্ট করে ফেলব। প্রতিউত্তরে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘না, আমি আশা রাখি আল্লাহ তায়ালা তাদের সন্তানদের মধ্যে এমন লোক পয়দা করবেন, যারা আল্লাহর ইবাদত করবে এবং শিরক করবে না।’ শত্রুর প্রতি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ক্ষমা ও মহানুভবতা দুনিয়ার বুকে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। তাঁর এ প্রত্যাশা আল্লাহ তায়ালা অপূর্ণ রাখেননি। পরে তায়েফের প্রতিটি মানুষ ইসলাম গ্রহণ করে ধন্য হন। প্রতিপক্ষের সঙ্গে মানবিক আচরণের ধারাবাহিকতা মদিনার সমাজ জীবনেও বরাবর অব্যাহত থাকে (সীরাতে হালাবীয়া, ২খ, পৃ. ৪৩৭-৪৫০; ইব্ন হিশাম, সীরাতুন্নবী, ১খ, পৃ. ৪৬৮-৪৭০; তারীখে তাবারী, ১খ, পৃ. ১০৮-১১০)।

কিছুক্ষণ আল-হাদায় অবস্থান করে তায়েফের সর্বোচ্চ পবর্তশৃঙ্গে আরোহণ করি, যেখানে বর্ষাকালে মেঘমালা মানুষের শরীরের সঙ্গে ধাক্কা খায়। প্রশস্ত সড়কে উঁচু-নিচু উপত্যকা অতিক্রম করতে বেশ ভালো লাগে। চারদিকে সবুজের সমারোহ। বিস্তীর্ণ ভূমিতে খেজুর, আনার, আঙুর, পিচ (খোখ), আঞ্জির, আখরোট ও শাক-সবজির বাগান। অনেকটা দেখতে বাংলাদেশের মতো। পথের ধারে গাছের ছায়ায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দুপুরের খাবার গ্রহণের দৃশ্য বনভোজনের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। আমরাও বনবীথিপূর্ণ একটি মনোরম স্থান বেছে নিই আহার ও বিশ্রামের জন্য। নৈসর্গিক শোভা ও শীতল হাওয়ার পরশ পথের ক্লান্তিকে পরাভূত করে। আবীরের আম্মা (ভাই হাফেজ জাহিদের স্ত্রী, কিশওয়ার) বিরিয়ানি, স্প্রাইট, মিনারেল ওয়াটার, শীতল পাটি, গামছাসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী সঙ্গে আনার কারণে আমাদের অসুবিধায় পড়তে হয়নি। ক্যাফেতে আরবীয় খাবার বাংলাদেশীদের কাছে অনেক সময় উপাদেয় মনে হয় না। আশপাশে প্রচুর আধুনিক কটেজ পর্যটকদের ভাড়া দেয়ার জন্য সুসজ্জিত অবস্থায় রয়েছে। এ দেশের জনগণ গ্রীষ্মকালীন ছুটি কাটানোর জন্য তায়েফকে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকেন।

আছরের নামাজ আদায় করলাম শহরের প্রাণকেন্দ্রের অন্যতম আকর্ষণ মসজিদে আব্বাসে। আধুনিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত বিশাল আয়তনের মসজিদ। এর পূর্বে অবস্থিত রইসুল মুফাসসিরিন হজরত আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা.)-এর সমাধি। নামাজ শেষে আমরা তাঁর কবর জিয়ারত করি। সমাধিগাত্রে একটি ঘটনা উত্কীর্ণ আছে—

‘হজরত আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা.) তায়েফে ইন্তেকাল করেন। জানাজার নামাজের জন্য তাঁর লাশ বের করা হলে চলার পথে একটি পাখি তাঁর কাফনের ভেতরে ঢুকে পড়ে। পাখিটি আর বের হয়নি। এ রকম পাখি আগে আর কোনো দিন দেখা যায়নি। কবরে যখন তাঁর লাশ দাফন করা হয়, কবরের প্রান্ত থেকে (‘হে প্রশান্ত আত্মা! তুমি ফিরে এসো তোমার রবের প্রতি সন্তুষ্ট চিত্তে ও সন্তোষভাজন হয়ে। অতঃপর আমার বান্দাদের মধ্যে শামিল হয়ে যাও, আর প্রবেশ করো আমার জান্নাতে’ আল ফজর: ২৭-৩০) তেলাওয়াত করতে শোনা যায়। তেলাওয়াতকারীকে দেখা যায়নি।

[(ক) আহমদ ইবনে হাম্বল, ফাযায়িলুস সাহাবা, মুআসিসসাতুর রিসালা, বয়রুত, লেবনান (প্রথম সংস্করণ: ১৪০৩ হি. = ১৯৮৩ খ্রি.), খ. ২, পৃ. ৯৬২, হাদিস : ১৮৭৯, (খ) কাযী সানাউল্লাহ পানিপথী, আত-তাফসীরুল মাযহারী, মকতাবায়ে রশিদিয়া, করাচি, পাকিস্তান (১৪১২ হি. = ১৯৯১ খ্রি.), খ. ১০, পৃ. ২৬৩, (গ) আত-তাবারানী, আল-মু’জামুল কবীর, মাকতাবাতু ইবনে তায়মিয়া, কায়রো, মিসর, খ. ১০, পৃ. ২৩৬, হাদিস : ১০৫৮১]

একটি ব্যাপার লক্ষণীয় যে, প্রখ্যাত সাহাবি হজরত আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা.)-এর সমাধিটি বেশ উঁচু দেয়াল দিয়ে আড়াল করে রাখা হয়েছে, যেন কবরটি চোখে দেখা না যায়। বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই উঁচু দেয়ালের আড়ালে কবর আছে। আলিমের পোশাকধারী এক ব্যক্তির কাছে যখন এ সাহাবির কবরের লোকেশন সম্পর্কে জানতে চাইলাম, তিনি অনেকটা বিরক্তি প্রকাশ করে বললেন, কেন? কবর দিয়ে কী করবেন? সৌদি আলেম ও সৌদি সরকার বিদআত প্রতিরোধের নামে কবর জিয়ারতকেও নিরুত্সাহিত করে থাকে। ঠিক একই দৃশ্য বদরের প্রান্তরেও দেখেছি। বদরের শহীদরা যে প্রান্তরে সমাহিত, তার চারদিকে বিশাল এলাকাজুড়ে রয়েছে সুউচ্চ দেয়াল, যেন কবরের মাটি জিয়ারতকারীদের চোখে না পড়ে। কিছুক্ষণ পর পর মোবাইল পুলিশ এসে জিয়ারতকারীদের তাড়ায়; দাঁড়াতেই দেয় না। এ দৃশ্য আমাদের অবাক করে। অথচ কবর জিয়ারত সুন্নাতে রাসুল (সা.) ও সুন্নাতে সাহাবা (রা.)। তুর্কিরা যখন হিজাজের শাসন ক্ষমতায় ছিল, তখন তাঁরা কবরের ওপর দরগা তৈরি করে অনেক বিদআতের প্রচলন করে। অপরদিকে বর্তমান সৌদি সরকার কবর জিয়ারতের অনুমতি দিতেও কুণ্ঠিত। আমার বিবেচনায় উভয়ের গৃহীত পদক্ষেপ বাড়াবাড়ি।

তায়েফের যে স্থানে পাথর ছুঁড়ে আল্লাহর রাসুল (সা.)-কে ক্ষত-বিক্ষত করা হয়েছিল, সেখানে একটি ছোট ইবাদতখানা গড়ে ওঠে। সূর্যাস্তের সময় আমরা সেখানে পৌঁছে মাগরিবের নামাজ আদায় করি। উঁচু পাহাড়ের ঢালুতে পাথরটি অলৌকিকভাবে ১৫০০ বছর ধরে আটকে আছে। রাতের তায়েফ যেন এক স্বপ্নপুরী। ডানে-বাঁয়ে বৈদ্যুতিক বাতির ঝলকানি। পাহাড়ের অধিত্যকা থেকে চোখ ফেললে যেন মনে হয় চারদিকে থোকায় থোকায় জোনাক জ্বলছে। রাতে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি পথে না এসে রিয়াদ-মক্কা মহাসড়কের (সায়লুল কবির) সমতল ধরে জেদ্দার উদ্দেশে তায়েফ ত্যাগ করি। তায়েফ পরিভ্রমণের পবিত্র সুখানুভূতি স্মৃতির তটরেখায় অনেক দিন উজ্জ্বল হয়ে থাকবে।

drkhalid09@gmail.com

আরবী কিবোর্ড ছাড়াই ব্লগে ও যেকোন ওয়েবপেজে আরবী পোস্ট ও মন্তব্য লিখুন।

যদি আপনি মজিলা ফায়ারফক্স ব্রাউজার ব্যাবহার করেন তাহলে আপনার কোন আরবী কি-বোর্ড না থাকলেও ব্লগে মন্তব্য বা পোস্ট দেবার সময় আরবী টাইপ করতে পারবেন। এজন্যে একটি Add-on ইন্সটল দিতে হবে। এই লিঙ্কে ক্লিক করে Yoolki Arabic Keyboard নামক Add-on টির add to firefox লেখায় ক্লিক করতে হবে। এরপর এটা ডাউনলোড হয়ে ইন্সটল হবার অপশন হবে। ইন্স্টল করে ব্রাউজার রিস্টার্ট করুন (কম্পিউটার রিস্টার্ট নয়- অপশন দেখাবে, সহজেউ বুঝবেন- মানে ব্রাউজার ক্লোজ করে আবার ওপেন করা)।
এবার যেকোন ব্লগে বা সাইটে যেকোন ইনপুট লেখার জায়গায় রাইট-ক্লিক করে "Write Arabic here" -এ ক্লিক করুন। নিচের পপআপটি আসবে।


এবার এখানে কোন ইংরেজি টেক্সট লিখলে তা প্রতি-বর্ণায়ণ (transliteration) হয়ে আরবী হয়ে যাবে। অথবা আরবীতে অনুবাদও করা যাবে।
যেমন আমি লিখেছিলাম ana যা হয়ে গেল انا ।
সমস্যা হলে পপআপের হেলপ দেখতে পারেন। তবে সহজেই বুঝে ফেলার কথা। এছাড়াও এ পৃষ্ঠায় বিস্তারিত নিয়ম কানুন দেখে নিতে পারেন। আমি একটি স্ন্যাপশট দিচ্ছি
ধন্যবাদ। আশা করি কাজে লাগবে।

মহাকাশে জঞ্জাল সাফ করবে ‘ডেয়স’

পৃথিবীর ওপর মহাকাশের চারদিক ভরে গেছে আবর্জনায়। সংখ্যাটা প্রায় ২০ কোটি। পৃথিবীর কক্ষপথে যেখানে টেলিকমিউনিকেশন স্যাটেলাইট থাকে এবং ভূপৃষ্ঠের কাছের অংশেই এগুলোর সংখ্যা বেশি। তাদের গতি অবিশ্বাস্যরকম দ্রুত হওয়ায় বিশাল বিপদের আশঙ্কা থেকে যায়। জার্মান এয়ারোস্পেস সেন্টারের হাউকে ফিডলার বলেন, মানুষের হাতের মুঠোর মতো ছোট্ট একটি টুকরোও যদি স্যাটেলাইটকে ধাক্কা মারে, তবে সেটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে। ঘণ্টায় কয়েকশ’ কিলোমিটার বেগে একটা গাড়ি ধেয়ে এলে যা হয়, মহাকাশে ছোট্ট একটি টুকরোও সেই ক্ষমতা রাখে।
বিকল স্যাটেলাইট ও রকেটের ভাঙা অংশই হলো আসল সমস্যা। ২০০৯ সালে মহাকাশে রাশিয়া ও আমেরিকার দুই স্যাটেলাইটের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটেছিল। তাদের ভাঙা টুকরোগুলো মেঘের মতো গোটা বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়েছিল। ফলে আরও এমন দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়ে গিয়েছিল। তাই জার্মান এয়ারোস্পেস সেন্টারের গবেষকরা এমন আবর্জনা সাফ করতে চান। কক্ষপথে এই অভিযানের পোশাকি নাম ‘ডেয়স’।
এ যেন এক সাফাই কর্মী, যে পুরনো স্যাটেলাইট ধরে তাতে জ্বালানি ভরে আবার মহাকাশে ছেড়ে দেবে। অথবা বিকল স্যাটেলাইট পৃথিবীর দিকে ঠেলে দেবে, যাতে সেটি বায়ুমণ্ডলের ঘর্ষণে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। ইঞ্জিনিয়াররা গবেষণাগারে বিকল স্যাটেলাইটের কাছে এগোনোর পদ্ধতি পরীক্ষা করছেন। তবে কাছে যাওয়ার আগে তাদের এমনসব তথ্যের প্রয়োজন, যা শুধু ঘটনাস্থলে গিয়েই সংগ্রহ করা সম্ভব। সাফাইয়ের আগে এটাই প্রথম পদক্ষেপ। ডিএলআর-এর হাউকে ফিডলার বলেন, প্রথমে ছবি তুলে দেখতে হবে স্যাটেলাইট সোজা এগোচ্ছে, নাকি মাতালের মতো টলছে? কোনদিকে ঘুরছে? ঘোরার অক্ষইবা কি? এবার হাত বাড়িয়ে সেটিকে ধরতে চাইলে জানতে হবে, ঠিক কোন অংশ ধরা যায় বা আদৌ ধরা সম্ভব কি-না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্যাটেলাইটের নকশাও পাওয়া যায় না।
মহাকাশে কোনো কিছু ধরার পরীক্ষা চলছে। মাধ্যাকর্ষণহীন অবস্থায় রোবটের হাত সামান্য এদিক-ওদিক হলেই স্যাটেলাইট টলে যেতে পারে। ইঞ্জিনিয়াররা এখানে সেই জটিল প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের জন্য কম্পিউটার প্রোগ্রাম তৈরি করতে পারেন, পরীক্ষাও চালাতে পারেন। গোটা বিশ্বে অন্য কোথাও এমন উচ্চপর্যায়ের গবেষণার সুযোগ নেই। প্রথমে ভূপৃষ্ঠ থেকে রোবট নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ডিএলআর-এর জর্ডি আর্টিগাস বলেন, প্রথমে রোবটের হাত ও বিকল স্যাটেলাইটের মধ্যে যোগাযোগের তথ্য পৃথিবীতে পাঠানো হয়। সেই তথ্যের ভিত্তিতে অপারেটর রোবটকে পরিচালনা করেন। বছর চারেকের মধ্যেই মহাকাশে জঞ্জাল সাফের প্রথম অভিযান শুরু হতে পারে। তবে তার শর্ত হলো—যেসব দেশ বড় আকারের মহাকাশ অভিযান চালায়, তাদের সেই ব্যয় বহন করতে হবে। সূত্র : ডিডব্লিউ

পরিধানযোগ্য কম্পিউটার ‘গুগল গ্লাস’

File:Google Glass Explorer Edition.jpeg২০১১ সালের এপ্রিলে বিস্ময়কর একটি চশমার ধারণা দিয়ে বিশ্বে হৈচৈ ফেলে দিয়েছিল গুগল। এখন পর্যন্ত ‘গুগল গ্লাস’ নামে পরিচিত এই বস্তুটি আসলে মোবাইল কম্পিউটার আর চশমার মিলিত এক রূপ।
এই চশমাটি দিয়ে ছবি তোলা, ইন্টারনেট ব্যবহার, ভিডিও রেকর্ড করা, এসএমএস পাঠানো—এমন সব কাজ করা যায়, অর্থাত্ হালের স্মার্টফোন দিয়ে যা করা সম্ভব, তা-ই করা যায় চোখে পরা এই চশমাটি দিয়ে।
গুগলের এই চশমাটি এখন ব্যবহার করছেন নির্বাচিত কিছু ব্যক্তি, যার মধ্যে রয়েছেন সফটওয়্যার ডেভেলপার, প্রোগ্রামার ইত্যাদি। তাদের দেয়া বিভিন্ন পরামর্শের ভিত্তিতে তৈরি করা হবে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য চশমা। নির্বাচিত এই ব্যক্তিরা দেড় হাজার ডলার দিয়ে চশমাটি কিনেছেন।
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ প্রচারণার উদ্দেশ্যে আকাশ থেকে ছবি তুলেছে। আছে বহিরাগতদের তোলা কিছু ছবিও। এসব বিচ্ছিন্ন ছবি ছাড়া অন্য কোনো উত্স নেই। ফলে সামগ্রিক চিত্র পাওয়া কঠিন। গুগল এসব খণ্ডচিত্র জুড়ে এক সার্বিক চিত্র দিতে চাইছে।
গুগলের নির্বাহী চেয়ারম্যান এরিক স্মিডট বলেছেন, কিছুদিনের মধ্যেই চশমাটি বাজারে আসতে পারে। আর দামটা স্মার্টফোনের চেয়ে বেশিই হবে বলে আগেই জানিয়েছিল গুগল।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে গুগলের একটি সম্মেলনে এই বিস্ময়কর চশমা নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। প্রোগ্রামারদের এই সম্মেলনে অনেকেই চশমা পরে উপস্থিত হয়েছিলেন। সেখানেই ফেসবুক আর টুইটার গুগল গ্লাসের জন্য তৈরি অ্যাপের উদ্বোধনী ঘোষণা দেয়। এর ফলে ব্যবহারকারীরা চশমা দিয়ে ছবি তুলে সঙ্গে সঙ্গে সেটা ফেসুবকে দিয়ে দিতে পারবেন, তেমনি সেটা পোস্ট করা যাবে টুইটারেও।

কিছু বিষয়ে আপত্তি
গুগল গ্লাস এখনও সাধারণের কাছে না এলেও আইন প্রণেতা থেকে শুরু করে অনেকেই এর কিছু বিষয় নিয়ে আপত্তি তুলেছেন। যেমন ভিডিও রেকর্ডিং সুবিধা থাকায় যত্রতত্র এর ব্যবহার ঠিক হবে কিনা, সেটা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যেমন গুগলের সম্মেলনেই অনেককে এই চশমা পরে টয়লেটে যেতে দেখা গেছে। যদিও তারা বলছেন, ভুল করেই তারা ভিডিও ক্ষমতাসম্পন্ন এই চশমা পরে টয়লেটে চলে গিয়েছিলেন, তবুও সেটা ঠিক হয়নি বলেই মনে করছেন অনেকে।
এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রে অনেক ক্যাসিনো ও বারে গুগল গ্লাস নিয়ে ঢোকাটা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

গুগলের বক্তব্য
গুগল কর্তৃপক্ষের দাবি, যেহেতু কম্পিউটারের ক্ষমতাসম্পন্ন চশমার ব্যবহার এখনও নতুন পর্যায়ে রয়েছে, তাই টুকটাক ভুল হতে পারে। যেমনটা হয়েছিল মোবাইল ফোন আসার সময়। কিন্তু যখন মোবাইলের ব্যবহার বেড়ে গেল তখন ব্যবহারকারীরা নিজে থেকেই কিছু নিয়ম মেনে চলা শুরু করে। যেমন বাসে থাকার সময় মোবাইলে জোরে কথা না বলা, বৈঠকে থাকার সময় রিংটোন বন্ধ করে রাখা ইত্যাদি। গুগল গ্লাসের ব্যবহারও যখন বাড়বে, তখনও মানুষ নিজের মতো করে নিয়ম বানিয়ে নেবে বলেই মনে করছে গুগল কর্তৃপক্ষ।
বিজ্ঞান ও কম্পিউটার

ব্লগে ট্রাফিক বাড়ানোর ৩০ পদ্ধতি

ব্লগের জন্য ট্রাফিক গুরুত্বপূর্ন। ট্রাফিক না থাকলে বিরাট ব্লগ হয়েও কোন লাভ নেই। আর ট্রাফিকের জন্য দরকারী কোয়ালিটি কন্টেন্ট। তার সাথে সাথে ট্রাফিক বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন উপায়ে চেষ্টা করা।
যেমন আমি ট্রাফিক বাড়ানো নিয়ে ৩০ টা উপায়ের একটা লিস্ট দিলাম।

১। "6 ways to get Traffic" "5 best educational blog"-- এরকম নাম্বার যুক্ত পোস্ট
লিখুন।লিস্ট পোস্ট। পাঠক এগুলো বেশী পছন্দ করে।
২। ব্লগে বেশী বেশী পোস্ট করার চেষ্টা করুন।কোয়ালিটির দিকে দৃষ্টি দিয়ে অবশ্যই।
৩। সার্চ ইঞ্জিন গুলোতে সাইট সাবমিট করুন। এখানে এড মী ব্যবহার করতে পারেন একসাথে ২৫ টা সার্চ ইঞ্জিনে সাবমিট করতে।
৪। ওডিওগো ব্যবহার করে সাইটের পডকাস্ট বানান। তারপর পডকাস্ট ডিরেক্টরী গুলোতে সাবমিশন করুন।
৫। প্রশ্ন উত্তর সাইট যেমন ইয়াহু আন্সার,  আন্সার ডট কম, ফর্মস্প্রিং এগুলো ব্যবহার করুন। কোন কোন দিন আমার ব্লগের ৮০ ভাগ ট্রাফিক ই আসে ইয়াহু আন্সার থেকে।
৬। ডিগ এবং স্টাম্বলাপনে লিংক সাবমিট করুন।  স্টাম্বলাপন ট্রাফিকের জন্য অন্যতম সেরা সাইট। কিন্তু এরা এক সাইটের বেশী লিংক সাবমিট করলে সাইট ব্লক করে দেয়। তাই অন্য বিভিন্ন সাইটের ও লিংক সাবমিট করতে হবে মাঝে মাঝে।
৭। আরটিকেল ডিরেক্টরী ইজিনার্টিকেল এ আর্টিকেল সাবমিট করতে পারেন।
৮। ব্লগে বেশী ছবি, এফিলিয়েট লিংক ব্যানার ইত্যাদি ব্যবহার করে লোডিং টাইম বাড়িয়ে দিবেন না। এতে মানুষ বিরক্ত হয়। ট্রাফিক কমে।
৯। পিং সার্ভিস পিংলার এবং পিং গট   পিং ও ম্যাটিক ব্যবহার করুন।
১০। হাব পেজে আপনার ব্লগ নিয়ে সুন্দর একটি পোস্ট দিন। হাব পেজ কোয়ালিটির ব্যাপারে অনেক সচেতন। আপনার পোস্ট ভালো মানের নাহলে তারা আনপাবলিশ করে দিবে। তাই সাইজে বড় এবং অরিজিনাল কিছু ছবি দিয়ে ভালো পোস্ট দিন।
১১। ব্লগ ক্যাটালগে ব্লগ সাবমিট করুন।
১২। বিভিন্ন ফোরামে বা কমিউনিটি তে ব্লগের জন্য একাউন্ট খুললে ইউজার নেম ব্লগের যে নাম সেটাই দিন। এতে পরিচিতি বাড়বে।
১৩। ব্লগের পোস্ট পিডিএফে রুপান্তর করে লিংক যুক্ত করে পিডিএফ সাইট স্ক্রি বিডি তে সাবমিট করতে পারেন।
১৪। আপনার ব্লগের জন্য উইকি পেজ বানাতে পারেন। লক্ষ্য রাখবেন যেন বিজ্ঞাপন মূলক না হয়।
১৫। স্কুইডো তে লেন্স বানাতে পারেন আপনার ব্লগ নিয়ে।
১৬। কমেন্টলাভ যুক্ত ব্লগে কমেন্ট করতে পারেন। কমেন্ট লাভ কমেন্টের নিচে আপনার সর্বশেষ পোস্ট দেখাবে। এতে ভালো ট্রাফিক পাবেন। কমেন্ট লাভ যুক্ত ব্লগ পেতে কমেন্টলাভ ব্লগ সার্চ ব্যবহার করতে পারেন।
১৭। টিউটোরিয়াল সাইটে টিউটোরিয়াল লেখতে পারেন। এখান থেকেও প্রচুর ট্রাফিক আসে।
১৮। ব্লগ ডিরেক্টরী এবং ওয়েবসাইট ডিরেক্টরীতে সাইট সাবমিট করুন। এখানে ৫২০ টা অয়েব ডিরেক্টরী আছে, আর এখানে ২৩ টা ব্লগ ডিরেক্টরী।
১৯। বড় টেক নিউজ গুলো নিয়ে সবার আগে পোস্ট দেয়ার চেষ্টা করুন। তাতে টেকচার্চ বা অন্য কোন ব্লগ নিউজ করার সময় আপনার ব্লগ কে সার্চ হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। এরকম একটা লিংক পেলেই গ্রেট!
২০। ব্লগ নিচের মধ্যে থাকা আমাজন প্রোডাক্টের রিভিউ করতে পারেন। রিভিউতে ব্লগের লিঙ্ক দিয়ে দিবেন।
২১। সোশ্যাল বুকমার্কিং সাইট গুলোতে ব্লগ সাবমিট করুন। একসাথে অনেকগুলো বুকমার্কিং সাইটে সাবমিট করতে এটা দেখুন
২২। স্পাইসি পেজ এ ব্লগ প্রমোট করুন।
২৩। ব্যতিক্রমী ক্রিয়েটিভ কিছু করুন ব্লগে।
২৪। বড় ব্লগার দের ইন্টারভিউ প্রকাশ করতে পারেন।
২৫। প্রতিষ্ঠিত ব্লগারদের অনেকেই আপনার ব্লগ রিভিউ করবে লিংকব্যাকের বিনিময়ে। আপনি তাদের এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করে দেখতে পারেন।
২৬। আর ব্লগে ট্রাফিক আনার পর ধরে রাখার জন্য ইন্টার্নাল লিংকিং করুন। এক পোস্টে রিলেটেড অন্য পোস্টের লিংক যুক্ত করা।
২৭। ব্লগে সুন্দর ছবি, গ্রাফিক, ইনফোগ্রাফিক্স ব্যবহার করুন।
২৮। ফটো শেয়ারিং সাইট গুলো তে ফটো সাবমিট করে লিংক দিতে পারেন ব্লগের।
২৯। ব্লগের কন্টেন্ট আমি মনে করি তিন ধরনের। যেমন-
১। কিলার পোস্ট- প্রচুর তথ্য যুক্ত। আপনার ব্লগের মেইন পোস্ট এগুলো। সপ্তাহে একটা দিলে যথেষ্ট।
২। কিলার পোস্টের লিংক যুক্ত পোস্ট- এগুলো ছোট পোস্ট। এগুলোতে সামান্য কিছু কথা, দু একটা টিপস এবং কিলার পোস্টের লিংক যুক্ত থাকে।
৩।  পুনম পান্ডে পোস্ট :D । এগুলো নেটের বা সাম্প্রতিক নিউজের ব্রেকিং নিউজ গুলো নিয়ে ছোট পোস্ট। সাধারনত বড় কোন নিউজ সাইটের লিংক যুক্ত থাকে। এগুলো মাঝে মাঝে প্রচুর ট্রাফিক আনতে পারে।
(পুনম পান্ডে নাম দিলাম বলে কেউ আবার ১৮+ মনে করবেন না :( )।
এই তিন ধরনের পোস্ট ই করতে হবে।
৩০। বিভিন্ন ফোরামে একটিভ থাকুন। সিগনেচারে ব্লগের লিংক ব্যবহার করবেন ঠিক আছে। তবে মাঝে মাঝে এংকর টেক্সট পরিবর্তন করে দিতে পারেন।
এই ৩০ টার লিস্ট করলাম। এর সবকটি যে করতে হবে তা না।  যেগুলো করবেন ভালোমত করার চেষ্টা করুন। ট্রাফিক পাবেন।
also here

গ্রামের নাম ঝাউডগী

গ্রামের এক গুচ্ছ চোখ-ধাঁধানো ছবি
ঝাউডগী গ্রাম, কুশাখালী ইউনিয়ন, লক্ষ্মীপুর সদর, লক্ষীপুর
শহরের যান্ত্রিকতা থেকে বাঁচতে কিছুক্ষণ চোখ বুলিয়ে আসা যায় গ্রামের এই ছায়া সুনিবিড় পরিবেশের ছবির প্রতি।
































বিনামূল্যের সফটওয়্যারে ভিডিও এডিটিং

বিনামূল্যের সফটওয়্যারে ভিডিও এডিটিংপ্রযুক্তির এই সময়ে এসে ভিডিও রেকর্ডারের ক্ষুদ্রতম মেশিন হলেও সবার হাতের নাগালে থাকে, যেমন মোবাইল ও হ্যান্ডিক্যাম। কিন্তু ভিডিও ধারণ করার পর অনেকেরই সাধ জাগে যদি একটু খানি এডিট করা যেত। কিন্তু সফটওয়্যারের নাম না জানা এবং ব্যবহার অজ্ঞতার কারণে কোনো রকম এডিট ছাড়াই সেই ভিডিও ব্যবহার করা হচ্ছে। তাই সবার হাতের নাগালে আসতে পারে এমন কিছু বিনামূল্যের ভিডিও এডিটিংয়ের সফটওয়্যার নিয়ে জানাচ্ছেন তরিকুর রহমান সজীব
ভিডিও এডিটিংয়ের কথা মনে হলেই মনে হয় প্রফেশনাল কোনো দক্ষ মানুষের কথা। একটা সময় পর্যন্ত ভিডিও এডিটিংয়ের কাজ করার কথা সাধারণ কোনো মানুষ কল্পনাও করতে পারত না। তার খুব বেশি প্রয়োজন বোধ করত না সবাই। তবে সময়ের সাথে স াথে বদলে গেছে দৃশ্যপট। এখন ফেসবুক আর ইউটিউবের এই যুগে ভিডিও পরিণত হয়েছে খুব সাধারণ বিষয়ে। হাতে হাতে মোবাইল আর স্মার্টফোন ছড়িয়ে পড়ায় এসব ডিভাইস থেকে প্রতি মুহূর্তেই রেকর্ড হচ্ছে হাজার হাজার ভিডিও। রেকর্ডের পরেই সেগুলো ছড়িয়ে যাচ্ছে ইউটিউবে, ভিমিও'র মতো ভিডিও শেয়ারিং সাইটে কিংবা ফেসবুকে। তবে সাধারণ মোবাইল ফোনগুলোতে অনেক সময়েই ভালো মানের ক্যামেরা থাকে না। ফলে ভিডিও'র মানও খুব বেশি ভালো হয় না। অনেক সময়ে তাই এসব ভিডিও নিজেই কিছুটা এডিটিংয়ের প্রয়োজন পড়ে। আবার অন্য যেকোনো ভিডিওতেও স্পেশাল ইফেক্ট যুক্ত করা বা বাড়তি অডিও যুক্ত করার ইচ্ছা জাগতেই পারে মনে। এসব কাজের জন্যই প্রয়োজন পড়ে ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যারের।

বিনামূল্যের ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার :

ভিডিও এডিটিংয়ের জন্য যেসব সফটওয়্যার রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে সফটওয়্যারগুলো ব্যবহার করতে গেলে যে অর্থ খরচ করতে হবে, এতে কোনো ভুল নেই, যাবতীয় প্রফেশনাল কাজই করা যায় এসব সফটওয়্যার ব্যবহার করে। তবে তাই বলে যে ভিডিও এডিটিংয়ের জন্য বিনামূল্যে ভালো কোনো সফটওয়্যার নেই তা নয়। অ্যাডোবি'র প্রিমিয়ার ইলেমেন্টস, অ্যাপল ফাইনাল কাট প্রো, কোরেল ভিডিও স্টুডিও, সাইবারলিংক পাওয়ার ডিরেক্টর, পিন্যাকল স্টুডিও আলটিমেট, সনি মুভি স্টুডিও প্লাটিনাম—এগুলো হচ্ছে ভিডিও এডিটিংয়ের সবচেয়ে ভালো সফটওয়্যারগুলো নাম। তবে এগুলো সমান ফিচার উপহার না দিতে পারলেও বিনামূল্রের ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার গুলোতেও রয়েছে ভিডিও এডিটিংয়ের মৌলিক কাজগুলোর পাশাপাশি বাড়তি সব ফিচার। বিনামূল্যের এসব সফটওয়্যারের মধ্য থেকে পাঁচটি নিয়ে আলোচনা করা হলো এখানে।

উইন্ডোজ মুভি মেকার :

ভিডিও এডিটিংয়ের বিনামূল্যের প্রোগ্রামগুলোর মধ্যে সম্ভব সবচেয়ে বেশি ব্যবহূত এবং জনপ্রিয় প্রোগ্রমের নাম উইন্ডোজ মুভি মেকার। উইন্ডোজ এক্সপির জন্য এটি বিল্ট-ইন হিসেবেই সংযোজিত ছিল। তবে উইন্ডোজ ৭-এ এটি ব্যবহার করতে চাইলে আলাদা সফটওয়্যার হিসেবে ডাউনলোড করে নিতে হবে। ব্যবহারের দিক থেকে উইন্ডোজ মুভি মেকার অত্যন্ত সহজ। প্রায় সব ধরনের ফরম্যঅটের ভিডিও ফাইল সমর্থন করে এই প্রোগ্রামটি। মুভি মেকারের উইন্ডোতে সরাসরি ড্র্যাগ-অ্যাড-ড্রপের মাধ্যমেই সংযোজন ক রা যায় এসব বিভিন্ন ফরম্যঅটের ভিডিও ক্লিপ। এরপর সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবেই একের পর এক বসে একটি ভিডিও তৈরি করবে। এক ক্লিপ শেষ করে অন্য ক্লিপে যাওয়ার মধ্যেকার অংশের জন্য বিল্ট-ইন হিসেবেই এতে রয়েছে নানা ধরনের ইফেক্ট। প্রতিটি ক্লিপ কীভাবে পর্দায় হাজির হবে না ক্লিপটির শেষ হবে কীভাবে, সেসবের জন্যও রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ইফেক্ট। এ ছাড়া সাউন্ডট্র্যাক যুক্ত করা; ভিডিওর শুরুতে প্রোগ্রামটি ব্যবহার করে। ভিডিও ট্রিমিং কিংবা কালার ইফেক্ট, ভিডিও স্পিটিং প্রভৃতি সুবিধাও রয়েছে এতে। প্রজেক্ট হিসেবেই কাজ করতে ডাব্লিউএমভির মতো ফরম্যাটে ভিডিও সেভ করতে পারবেন কিংবা সরাসরি ফেসবুক বা ইউটিউবে আপলোড করতে পারবেন। অনলাইন আপলোডের এই সুবিধা অবশ্য উইন্ডোজ ৭ থেকেই যুক্ত হয়েছে। মাইক্রোসফটের অফিস ব্যবহার করে যারা অভ্যস্ত, তাদের জন্য এটি ব্যবহার করা ঝামেলার হবে না। http://goo.gl.z33k1 লিংক থেকে আপনার প্রয়োজনীয় সংস্করণের মুভি মেকার ডাউনলোড করে নিতে পারবেন।

ডিবাগমোড ওয়াক্স :

ভিডিও এডিটিং এবং ভিডিওতে স্পেশাল ইফেক্ট যুক্ত করতে আরও একটি বহুল ব্যবহূত এবং সহজ সফটওয়্যারের নাম ডিবাগমোড ওয়াক্স। এর নির্মাতারা একে হাইপারফরম্যান্স অ্যান্ড ফ্লেক্সিবল ভিডিও কম্পোজিশন অ্যান্ড স্পেশাল ইফেক্ট সফটওয়্যার হিসেবে দাবি করেছেন। নিজের পছন্দের ভিডিওগুলোতে মনের মতো ইফেক্ট যুক্ত করার সুবিধা দিতেই তৈরি হয়েছে এই ফ্রিওয়্যার। ওয়াক্সের বড় একটি ফিচার হচ্ছে একে দুইটি মোডে ব্যবহার করা যায়। আলাদাভাবে স্ট্যান্ডঅ্যালোন সফটওয়্যার হিসেবে একে ব্যবহার করে টুডি বা থ্রিডি ইফেক্ট তৈরি করা যায়। আবার একে অন্যান্য নন-লিনিয়ার এডিটিং সিস্টেমের (যেমন, সনির ভেগাস, অ্যাডোবি প্রিমিয়ার, পিওর মোশন এডিট স্টুডও) সাথে প্লাগ-ইন হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। ফলে অ্যামেচারের পাশাপাশি প্রফেশনালরাও এটি ব্যবহার করতে পারবেন। এর বিভিন্ন ফিচার হিসেবে রয়েছে রোটোমেট (ভিডিওর উপরে পেইন্ট করার সুবিধা), মোডেল লোডার (থ্রিডিএস, এমডিটু প্রভৃতি ফাইল), টেক্সট থ্রিডি প্রভৃতি। এতে গ্রাফিক অ্যাকসেলারেশনও রয়েছে।

ডাউনলোড লিংক http://goo.gl/kUHW।

ফ্রিমেক ভিডিও কনভার্টার :

নাম দেখেই বুঝা যায়, ফ্রিমেক ভিডিও কনভার্টারের মূল কাজ হচ্ছে ভিডিওকে এক ফরম্যাট থেকে অন্য ফরম্যাটে রূপান্তর করা। তবে এর কাজ কেবল ভিডিও কনফার্সনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর সাথে মৌলিক সুবিধার কিছু ভিডিও এডিটিং ফিচারও রয়েছে। এতে একাধিক ভিডিও ক্লিপকে ড্র্যাগ অ্যান্ড ড্রপ করে যুক্ত করা থাকে এবং সেগুলোর সমন্বয়ে সাজানোও যাবে। সেসব ক্লিপকে আবার কেটে ছোট করা, ঘোরানো ক্লিপ পেট্যান্টে, প্রতিটি ক্লিপের ফরম্যাট পরিবর্তন প্রভৃতি সুবিধা পাওয়া যাবে এতে। নামে ভিডিও কনভার্টার হলেও এটি যেকোনো ভিডিও থেকে অডিও থেকে অন্য ফরম্যাটে রূপান্তর করতে পারে। অডিও-ভিডিওর আড়াই শতাধিক ফরম্যঅট করে এই সফটওয়্যার। আবার পিসির সাথে সাথে মোবাইল ফোন এবং স্মার্টফোনেও ব্যবহার করা যাবে। অ্যান্ড্রয়েড গতিতে কাজ করতে সক্ষম। ডাউনলোডের ঠিকানা www.freemaker.com ছবির ফরম্যাটও পরিবর্তন করতে পারে ফ্রিমেক ভিডিও কনভার্টার।

ভার্চুয়াল ডাব :

ভার্চুয়াল ডাব সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হচ্ছে এটি কেবল এভিআই ফরম্যাটের ভিডিও নিয়েই কাজ করতে পারে, এমপিইজি-১ ফরম্যাট এটি রিড করতে পারলেও রাইট করতে পারে না। তবে সারা বিশ্বেই এখন ভিডিও ফরম্যাট হিসেবে এভিআই ফাইলের অসম্ভব জনপ্রিয়তা রয়েছে। ফলে কেবল একটি ফরম্যাট সমর্থন করলেও ভার্চুয়াল ডাব ভিডিও এডিটিংয়ের ভালো একটি সফটওয়্যার। এটি ভিডিও ক্যাপচারিং ইউটিলিটি হিসেবেও ৩২-বিট বা ৬৪-বিট সিস্টেমে ব্যবহূত হতে পারে। এর ইউজার ইন্টারফেস অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন এবং এখান থেকে সহজেই ভিডিও ক্লিপগুলো এডিট করা যায়। এসব এডিটিং ফিচারের মধ্যে রয়েছে ভিডিও শার্প করা, ব্লার করা, আবার ছোট-বড়া করা, রোটেট করা (যেকোনো পরিমাণে), উজ্জ্বলতা কমানো-বাড়ানো, রঙে ইফেক্ট দেওয়া প্রভৃতি। ভার্চুয়াল ডাবের বড় একটি সুবিধা হচ্ছে ব্যাচ প্রসেসিং। অর্থাত্ একগুচ্ছ ভিডিওতে বা ভিডিও ক্লিপে একই ধরনের পরিবর্তন করতে চাইলে তা এক কমান্ডেই করার সুবিধা রয়েছে। থার্ড-পার্টি ভিডিও ফিল্টরের সাথেও এটি ব্যবহূত হতে পারে। www.virtualdub.org ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করা যাবে এই সফটওয়্যার।

এভিআইডিমাক্স :

ভিডিও এডিটিংয়ের জন্য বিনামূল্যের আরেকটি ছোট্ট সফটওয়্যারের নাম এভিআইডিমাক্স। ওপেন সোর্স এই ভিডিও এডিটরে ভিডিও সম্পাদনার মৌলিক সব সুবিধাই পাওয়া যাবে। একাধিক ক্লিপকে যুক্ত করা এবং রি-এনকোডিং ছাড়াই ভিডিও ক্লিপ কাটার সুবিধা আছে এতে। এ ছাড়া লোগো সংযোজন, ক্রপ করা, ফ্লিপ-রোটেট, রিসাইজ, শার্পেন, নয়েজ মুিভিং, ব্রাইটনেস, কন্ট্রোল প্রভৃতি সুবিধা তো আছেই। ভিডিওর কালার এবং কন্ট্রাস্ট নিয়ন্ত্রণের সুবিধাও রয়েছে এভিআই ডিমাক্সে। এর নামের সাথে এভিআই থাকলেও এবি বিভিন্ন ধরনের ফাইল ফরম্যাট সমর্থন করে থাকে। বলা যায় প্রচলিত জনপ্রিয় সব ভিডিও ফরম্যাট এবং কোডেক সমর্থন করে এটি। অডিওর ক্ষেত্রেও জনপ্রিয় সব ফরম্যঅটই এটি সমর্থন করে। ভিডিও এডিটিংয়ে এভিআই ডিমাক্সও হতে পারে আপনার পছন্দ। ডাউনলোড লিংক http://goo.gl/U33VH।

এর বাইরেও প্রচুর ভিডিও এডিটিংয়ের বিনামূল্যের সফটওয়্যার রয়েছে অনলাইনে। এর মধ্যে আছে কেটস ভিডিও টুলকিট, ফ্রি ভিডিও ডাব, লাইটওয়ার্কস, ব্লেন্ডার, মুভিস্টর্ম, ভিডিও ফিকশন প্রভৃতি।
সূত্রঃ ইত্তেফাক

মহাকাশে রহস্যময় তেজস্ক্রিয় তরঙ্গ

আন্তর্জাতিক গবেষকদের একটি দল ১১০০ কোটি আলোকবর্ষ দূর থেকে আসা রহস্যময় তেজষ্ক্রিয় তরঙ্গের সংকেত পেয়েছে। ৬ বছর আগে চোখের এক পলকের এক-দশমাংশের কম সময় এ সংকেত স্থায়ী হয়। বিস্ফোরণটি এতো সূক্ষ্ম ছিল যে, বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হতে পারছিলেন না এটি সত্যি নাকি মিথ্যা। তবে এবার অস্ট্রেলিয়ার ৬৪ মিটার দীর্ঘ পারকস রেডিও টেলিস্কোপে তেজস্ক্রিয় তরঙ্গের চারটি বিস্ফোরণ রেকর্ড করা হয়েছে। বিজ্ঞানীরা অনুমান করছেন, ‘রেডিও আই’ বা তেজস্ক্রিয় তরঙ্গ শনাক্তকারী টেলিস্কোপ দিয়ে গোটা আকাশ পর্যবেক্ষণ করা হলে প্রতি ১০ সেকেন্ডে এ ধরনের সংকেত ধরা পড়বে। গতকাল শুক্রবার সায়েন্স জার্নালে এ ব্যাপারে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক গবেষকদের এ দলের সঙ্গে যেসব দেশের বিজ্ঞানীরা সংশ্লিষ্ট ছিলেন সেই দেশগুলো হলো অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র
ও ইতালি। বিজ্ঞানীরা এসব বিস্ফোরণের শক্তি নিয়ে গবেষণা চালিয়ে এ উপসংহারে পৌঁছেছেন যে, নিউট্রন তারকা অথবা কৃষ্ণগহ্বরের মতো মহাজাগতিক কোনো বস্তু থেকে এ তেজস্ক্রিয় তরঙ্গ উত্পন্ন হচ্ছে। তারা বলছেন, ঔজ্জ্বল্য ও দূরত্ব থেকে বোঝা যাচ্ছে, দূর মহাকাশে এসব তরঙ্গ উত্পন্ন হয় এবং মহাকাশের বয়স ছিল তখন তার বর্তমান বয়সের অর্ধেক। সূত্র : দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া
source:amardeshonline

বিশ্বের কিছু সুন্দরতম জায়গা, ছবি ও চুম্বক বর্ণনা

.Lord Howe Island, Australia
এটি অষ্ট্রেলিয়ার নরফোক আইল্যান্ড থেকে ৯০০ কি.মি. দূরত্বে অবস্থিত। এতে একসাথে ৪০০ জন মানুষের বেশি দর্শনে যাবার অনুমতি নেই। এতে একইসাথে রয়েছে নিখুঁত সৈকত, নীল লেগুন, কোরাল রীফ, আগ্নেয় চূড়া ও রেইনফরেস্ট। এতে রয়েছে কিছু এন্ডমিক (যাদের বসবাস নির্দিষ্ট কোন একটি মাত্র স্থানে) প্রাণীও

২.Namaqualand, South Africa

দক্ষিণ আফ্রিকা ও নামিবিয়ার সীমান্ত এলাকাজুড়ে এর অবস্থান। বছরের বেশিরভাগ সময়েরই এটি শুষ্ক ও অনুর্বর দেখায়। কিন্তু বসন্তে এটি ভরা যৌবন নিয়ে আসে যখন এতে ফোটে শতশত ডেইজি ফুল যা একে করে তোলে অনিন্দ্যসুন্দর যা মনে করিয়ে দেয় আল্লাহর সেই প্রাকৃতিক নিদর্শনের উল্লেখের কথা কুরআনে তিনি যেমনটি বলছেন
আল্লাহই বায়ু প্রেরণ করেন, অতঃপর সে বায়ু মেঘমালা সঞ্চারিত করে। অতঃপর আমি তা মৃত ভূ-খন্ডের দিকে পরিচালিত করি, অতঃপর তদ্বারা সে ভূ-খন্ডকে তার মৃত্যুর পর সঞ্জীবিত করে দেই। এমনিভাবে হবে পুনরুত্থান। সুরা ফাতির (৩৫:৯)

৩.Plitvice Lakes National Park, Croatia

 দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের সর্বপ্রাচীন ও ক্রোয়েশিয়ার সর্ববৃহৎ ন্যাশনাল পার্ক। এটা এখন বিশ্বঐতিহ্য স্থানগুলোর (World Heritage Site) একটি। তরঙ্গায়িত হয়ে সজ্জিত লেকগুলোর জন্যে এ পার্কটি বিখ্যাত। বর্তমানে ১৬ টি লেক এর পৃষ্ঠ থেকে দেখা যায়। ১৯৪৯ সালে এটি আবিষ্কৃত হয়। ছবিটি বড় করে দেখলে আরো সুন্দর মনে হবে
৪.Gullfoss, Iceland

White River এ অবস্থিত গালফোস নামক জলপ্রপাতের সুন্দর জলপ্রপাত আইসল্যান্ডে দ্বিতীয়টি নেই যদিও দেশটি অনেক প্রপাতের জন্য বিখ্যাত। এটার আলাদা বৈশিষ্ট্য হলো তিনটি বিশাল স্তর অতিক্রম করে প্রপপাতগুলো দুইস্তরে নিমজ্জিত হয়ে ৩২ মিটার ফাটল তৈরি করে। এর ফলেই মনে হয় যেন জলপ্রপাতগুলো বিশাল গহ্বরের উপরে অবস্থিত, অবশ্য যেকোন গহবরতো দেখতে দর্শনীয় নয়!!

৫. Antelope Canyon, Arizona

আমেরিকার কোন গিরিখাতের কথা কেউ প্রসঙ্গে তুললে যদিও সাথে সা্থে গ্রান্ড ক্যানিয়নের কথা মনে চলে আসে তবুও অ্যান্টিলোপ ক্যানিয়নও গুরুত্ব পাবার দাবী রাখে। এটি দক্ষিণপূর্ব আমেরিকার সবচেয়ে দর্শনীয় ও স্ন্যাপকৃত (ছবি তোলা হয়েছে) সরু গিরিখাত।  হাজার হাজার বছর ধরে বেলেপাথর ক্ষয়ে গিয়ে সৃষ্ট নদী ও জলপ্রবাহের ফলে এর সৃষ্টি। এর মধ্যে মাইলের পর মাইল হেঁটে যাওয়া নিঃসন্দেহে এক অদ্ভূত অনুভূতির সৃষ্টি করবে।