home only

.
কথিত যুদ্ধাপরাধের বিচার: বিশেষজ্ঞরা কি বলেন?

ডি এন এ” কি? প্রথম পর্ব- গঠন

ডি এন এ” কি?

প্রথম পর্ব- গঠন

(প্রবন্ধটি ধারিবাহিক চলতে থাকবে।)

ডিএন এর আবির্ভাব –

প্রানী জগতের প্রায় ৪ বিলিয়ন বৎসরের ইতিহাসে ডি এনএ ঠিক কখন আবির্ভাব হয়েছে এ ব্যাপারে বিজ্ঞানী গন এখনো নিশ্চিত নন। তবে সব চেয়ে প্রাথমিক প্রানীতে সম্ভবতঃ আর এন এর আবির্ভাব ঘটেছিল। পরবর্তিতে আর এন এ হতে ডিএন এর রুপান্তর ঘটেছিল। অন্যভাবে বলা যায় আরএনএ ডিএন এর PRECURSORবা পূর্বাবস্থা(১)



চিত্র- ফ্রেডরিক মীসার(Friedrich Miescher)

আবিস্কার:একজন তরুন সুইডিস চিকিৎসক তার নাম ফ্রেডরিক মীসার(Friedrich Miescher)

১৮৬৮/৬৯ এর শীতকালে” টুবিনজেন” ইউনিভার্সিটির “ফেলিক্স হোপ-ছেইলার” নামক ল্যাবরেটরীতে রক্তের শ্বেত কনিকার উপাদান এর উপর কাজ করতে করতে হঠাৎ “ডিএনএ”এর সন্ধান পেয়ে যান (১)

ডিএনএ প্রানী জগতের সমস্ত GENETIC CODE প্যাকেজ করে রাখার জন্য সর্ব্বোত্তম ফর্মুলা। প্রায় সমস্ত প্রাণীরই যেমন বৃক্ষ,ব্যাকটেরিয়া,ঈষ্ট,জীব-জন্তু মানব, এদের সবারই GENETIC CODE গুলী এদের প্রত্যেকটি কোষের নিউক্লীয়াছের মধ্যে ক্যাপছুল আকারে ডি এন এর মধ্যে সংরক্ষিত থাকে। একমাত্র ভাইরাস, এর ব্যতিক্রম। ভাইরাসে এ কাজের জন্য আর এন এ ব্যবহৃত হয়। (৯)

ডিএনএ চেইন এর যে অংশটি GENETIC CODE বহন করে সেই অংস কে GENE বলা হয়।

আর বাকী অংশ টুকু ও বেকার বসে থাকেনা। তার ও বিশেষ বিশেষ কাজ থাকে।এদের কিছু অংশ উপাদান নির্মানে কাজ করে আবার কিছু অংশ GENETIC CODE নিয়ন্ত্রনে কাজ করে।(১১)।

একমাত্র MONO ZYGOTE (IDENTICAL) TWIN ছাড়া, কখনো একজনের DNA আর একজনের DNA এর সংগে একই রকম হইবেনা।

মানুষের ডি এন এ কে পরিস্কার ২৩ জোড়া ক্রোমছোম (CHROMOSOME) আকারে শক্ত করে প্যাক করে রাখা হয়েছে, যার মধ্যে সমস্ত GENETIC CODE সংরক্ষিত রহিয়াছে। অতএব ডিএন এ ক্রোমোছমের BUILDING BLOCK।এই শক্ত করে প্যাক করার জন্য যে প্রোটিন কে ব্যবহৃত করা হয়ছে তার নাম হিস্টোন (HISTONE) (৯)

মানুষের শরীরের প্রত্যেকটি কোষের NUCLEUS এর মধ্যে ৩ বিলিয়ন BASE PAIR সংযুক্ত সম্পন্ন ডি এন এ, কয়েল আকারে সংরক্ষিত রহিয়াছে যার দৈর্ঘ ১ মিটার।(৯)

ডিএনএ কি কাজ করে:-

মাতৃগর্ভে MALE GAMATE ও FEMALE GAMATE মিলিত হয়ে FERRIILZED হয়ে এক কোষী ZYGOT তৈরী হলে এর মধ্যে এর পিতা মাতা হতে পূর্ণ মাত্রায় GENETIC CODE চলে এসে সংরক্ষিত হয়ে যায়।

আর এর মধ্যে অবস্থিত ডিএনএ জীবনের সেই সবচাইতে প্রথম থেকে আরম্ভ করে. এই কোষের বৃদ্ধি,শিশুতে পরিণত হওয়া. যৌবনের MATURITY ও বার্ধক্য জনিত ক্ষয়, এসমস্ত কার্যাবলী প্রানিটির মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত, নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে চালিয়ে যায়।

এই ডিএনএ পরীক্ষা বড় বড় অপরাধীদের চিহ্নিত করার ও কারো পরিচিতি জানার সব চাইতে নির্ভর যোগ্য পন্থা।

বিজ্ঞানীদের জন্য এই ডিএনএ প্রানীদের বিবর্তন ধারার স্তর চিহ্নিত করার একটা নির্ভর যোগ্য হাতিয়ার।

জীব বিবর্তনে ডিএনএর ভূমিকা:- ডিএনএর মধ্যে প্রানীর DEVELOPMENT এর সমস্ত GENETIC CODE বিদ্যমান থাকে। প্রানীরা বিপরীত পারিপার্শিক পরিবেশের সম্মুখীন হইলে তখন তাদের GENETIC CODE এ বেচে থাকার জন্য সহায়ক পরিবর্তন (MUTATION) ঘটে। এই সহায়ক পরিবর্তিত GENETIC CODE প্রাণীটিকে পরিপন্থি পরিবেশের সংগে খাপ খাইয়ে টিকে থাকার জন্য একটা উপযুক্ত পরিবর্তিত জাতে (TRAIT) এ পরিবর্তিত করে।

প্রানীটি তার এই উপকারী পরিবর্তিত GENETIC CODE তার ভবিষ্যৎ বংশধর দের মধ্যেও পাঠাতে থাকে।

প্রানীটি কোন বংশধরদের মধ্যে এই উপকারী পরিবর্তিত(MUTATED) GENETIC CODE টি পাঠাতে ব্যর্থ হইলে. অথবা কোন কারনে এটা নষ্ট হইয়া গেলে. সে সমস্ত বংশ জাত প্রানী গুলী মারা যায়।( ১৫)

অতএব আমরা মানব জাতি সহ সমস্ত প্রানী জাতি এই ক্ষুদ্রাতি ক্ষুদ্র ডিএনএ এর কার্যক্রমের আওতায় পূর্ণ মাত্রায় নিয়ন্ত্রিত।

ডিএনএ নামক এই অতি ক্ষুদ্র অথচ অত্যন্ত জটিল পদার্থ টি সম্পর্কে যৎ কিঞ্চিৎ জানার উদ্যোগে এই রচনাটির ক্ষুদ্র প্রয়াস।

আসুন এবারে তাহলে আমরা ডিএনএ নামক পদার্থটিকে একটু দেখে আসি এর অভ্যন্তরে কি ধরনের কাজ কারবার চলতেছে।

ডিএনএ এর পূর্ণ নাম “ডিঅক্সিরিবোনিউক্লীইক এসিড এটা একটি নিউক্লীক এসিড(NUCLEIC ACID)

নাম করন:-

ডিএনএ এর মধ্যে“ডি-অক্সি-রিবোছ” (DE0XY RIBOSE) রহিয়াছে। যেহেতু এটা প্রাথমিক ভাবে কোষের নিউক্লিয়াছ এর মধ্য হতে আবিষ্কৃত হয়েছে, একারনে নিউক্লীক(NUCLEIC)শব্দটি এসেছে।

এর মধ্যে ফসফেট(চিত্র ৩) অনু রহিয়াছে।ফসফেট অনু ফসফরিক এসিডের সংগে সম্পর্কিত। এজন্য এসিড নামটি যুক্ত হয়েছে।

এ ভাবে “ডিঅক্সিরিবোনিউক্লীক এসিড বা(ডিএনএ) নাম টি এসেছে।

ডিএন এর কিছু গুনাবলী:

জেমস ডি ওয়াটসন একজন আমেরিকান আনবিক জীব বিজ্ঞানী,তার সহকারী ফ্রান্সিস ক্রিক ওয়াটসন ও মরিস ভিকিনছ এর সংগে একত্রে গবেষনা চালিয়ে ১৯৫৩ সনে ডিএনএর উপাদান আবিস্কার করেন । এই আবিস্কারের ফলশ্রুতিতে তারা ফিজিও লজীতে ১৯৬২ সালে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী হন।(৮)

তারা সর্ব প্রথম দেখতে পান ডিএনএ দুইটি কয়েল আকৃতির চেইন যা একটি AXIS এর উপর পেচানো আকারে থাকে।(চিত্র-৪ ও ১৫ দেখুন)

এর PITCH (এক পেচ হতে আর এক পেচ এর দুরত্ব) ৩.৪ ন্যানোমিটার। এর RADIUS ১ন্যানোমিটার।(৬)।

এর পস্থ ২.২-২.৬ন্যানোমিটার এবং একটা নিউক্লিওটাইডের দৈর্ঘ ০.৩৩ ন্যানোমিটার।(৭)

একটি ডিএনএ অনু এত বৃহৎ আকারের অনু হতে পারে যে এতে ১০০,০০০হতে ১০,০০০,০০০,০০০ নিউক্লিওটাইডের লম্বা চেইন পর্যন্ত থাকতে পারে।(৯)

মানুষের CHROMOSOME 1, ২৪৭ মিলিয়ন বেছ পেয়ার (BASE PAIR) পর্যন্ত লম্বা। এটিকে এপর্যন্ত সব চাইতে দীর্ঘ CHROMOSOME হিসাবে বিবেচনা করা হয়।(৯)






চিত্র-১, ডি-অক্সিরিবোছ।



চিত্র-২, রিবোছ।



চিত্র-৩, ফছফেট।



চিত্র-৪,ডিএনএ, এর ডবল হেলিক্স।



চিত্র-৫,ডিএনএ এর উন্মুক্ত কয়েল।

চলতে থাকবে

সূত্র:

১।^ Dahm, R (Jan 2008). "Discovering DNA: Friedrich Miescher and the early years of nucleic acid research". Human Genetics 122 (6): 565–81. doi:10.1007/s00439-007-0433-0. ISSN 0340-6717. PMID 17901982.

২।^ Kabai, Sándor (2007). "Double Helix". The Wolfram Demonstrations Project.

৩।^ Wang JC (1979). "Helical repeat of DNA in solution". PNAS 76 (1): 200–203. doi:10.1073/pnas.76.1.200. PMC 382905. PMID 284332.

৪। http://en.wikipedia.org/wiki/Nucleotide

৫। Yakovchuk P, Protozanova E, Frank-Kamenetskii MD (2006). "Base-stacking and base-pairing contributions into thermal stability of the DNA double helix". Nucleic Acids Res. 34 (2): 564–74. DOI:10.1093/nar/gkj454. PMC 1360284. PMID 16449200. //www.pubmedcentral.nih.gov/articlerender.fcgi?tool=pmcentrez&artid=1360284.

৬।a b c d Watson J.D. and Crick F.H.C. (1953). "A Structure for Deoxyribose Nucleic Acid" (PDF). Nature 171 (4356): 737–738. Bibcode 1953Natur.171..737W. DOI:10.1038/171737a0. PMID 13054692. http://www.nature.com/nature/dna50/watsoncrick.pdf.

৭।^ Gregory S; Barlow, KF; McLay, KE; Kaul, R; Swarbreck, D; Dunham, A; Scott, CE; Howe, KL et al. (2006). "The DNA sequence and biological annotation of human chromosome 1". Nature 441 (7091): 315–21. Bibcode 2006Natur.441..315G. DOI:10.1038/nature04727. PMID 16710414.

৮। http://en.wikipedia.org/wiki/James_D._Watson

৯। http://www.nobelprize.org/educational/medicine/dna_double_helix/readmore.html

১০। http://en.wikipedia.org/wiki/Chromosome

১১। http://en.wikipedia.org/wiki/DNA

১৩। http://www.ncbi.nlm.nih.gov/pmc/articles/PMC177480/?tool=pmcentrez ১৪।http://en.wikipedia.org/wiki/Zygote

যেকোন ওয়েবসাইটের অডিও/মিউজিক, ভিডিও ডাউনলোড করুন বিভিন্ন ফরম্যাটে

এর আগেও যেকোন ওয়েবসাইটের অডিও/ভিডিও ডাউনলোড করার একটি উপায় বলেছিলাম।  তবে সেটাতে কিছুটা সীমাবদ্ধতা আছে। সেখানে ফাইলটি যে ফরম্যাটে আছে সেই ফরম্যাটেই ডাউনলোড করতে হয়। যেমন .flv ফাইল কে এফএলভি ফাইল হিসেবেই ডাউনলোড করতে হয়। এমপিথ্রিকে এমপিথ্রি হিসেবেই ডাউনলোড করতে হয়।
এর সমাধান রয়েছে আরেকটি অ্যাড-অনে। এটি দিয়েও ইউটিউব, ফেসবুকসহ যেকোন ভিডিও এবং অডিও ডাউনলোড করা যাবে বিভিন্ন ফরম্যাটে।
১. এখানে ক্লিক করুন
২. Add to Firefox এ ক্লিক করুন
৩. ডাউনলোড শেষ হলে Install  এ ক্লিক করুন।
৪. ব্রাউজার রিস্টার্ট করে নিলে ভাল হয়। (ব্রাউজার ক্লোজ করে আবার ওপেন করা, পিসি রিস্টার্ট নয়)
৫. এবার কোন ওয়েবসাইটে বা ব্লগে গিয়ে মাল্টিমিডিয়া প্লে করলেই ব্রাউজারের উপরে একটি তীর চিহ্ন দেখা যাবে।  (ছবিতে ব্রত্তাবদ্ধ) এতে ক্লিক করে ইচ্ছেমতো ফরম্যাটে ডাউনলোড করা যাবে। ছবিতে দেখে আরো ভালোভাবে বুঝুন-
প্লে করার আগে তীরচিহ্নের উপরে একটি লাল ক্রস দেখা যাবে।

বহুরুপী গিরগিটির রুপবদলের কাহিনী; ছবি ও তথ্য

বহুরুপী (রূপ বদলে সক্ষম) গিরগিটি (Chameleons) বিভিন্নভাবে নিজেদের ছদ্মবেশ (camouflage)  ধারণ করে। তন্মেধ্যে সবচে’ বিখ্যাত প্রক্রিয়া হলো, ত্বকের রং এবং নকশা পাল্টানোর মাধ্যমে ছদ্মবেশ ধারণ। বেশিরভাগ বহুরূপী গিরগিটিই তাদের রং বদলাতে পারে আর তারা এটা করে থাকে তাদের রন্জকধারণকারী (pigment-containing) কোষগুলোর সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে। তারা রং পাল্টিয়ে পরিবেশের ব্যাকগ্রাউন্ডের সাথে মিল তৈরি পরিবেশের সাথে মিশে যেতে পারে। তাদের শরীরের আকৃতি ও চলাচলের প্রক্রিয়াও তাদেরকে এ কাজে সহায়তা করে।

তাদের ধনুকাকৃতির পিঠ পাতার মত অবয়ব তৈরি করে আর ধীর-গতির কারণে শিকারী-প্রাণী তাদেরকে সনাক্ত করতে গিয়ে হয় বিভ্রান্ত। কোন কোনটি আবার নিজেদের পাতার মত করে দেখাবার জন্যে বাতাসের সাথে সাথে দোল খায়।
এবার দেখা যাক কিছু ছবি-








নোটপ্যাড দিয়ে তৈরি করুন ক্যালকুলেটর

নোটপ্যাডের মাধ্যমে নিজেই তৈরি করতে পারেন ক্যালকুলেটর। প্রথমে একটি নোট প্যাড খুলুন এবং নিচের কোডগুলো কপি করুন।

@echo off
color 0A
title CALCULATOR VERSION 1.2
:loop
cls
echo by Leo
echo_
echo by leo.cse48@gmail.com
echo.
echo Calculator Version 1.2
echo -----------------------------------------------
echo * = MULTIPLY
echo + = ADD
echo - = SUBTRACT
echo 2 = SQUARED
echo / = DIVIDE

echo After an equation, type CLEAR to clear the screen of your equations, type KEEP to leave them there, or type EXIT to leave.

:noclear
set /p UDefine=
set /a UDefine=%UDefine%
echo.
echo =
echo.
echo %UDefine%
echo KEEP, CLEAR, OR EXIT?
set /p clearexitkeep=
if %clearexitkeep%==CLEAR goto loop
if %clearexitkeep%==KEEP echo. && goto noclear
if %clearexitkeep%==EXIT (exit)
:misspell
echo.
echo -----------------------------------------------
echo You misspelled your command. Please try again (make sure you are typing in all caps LIKE THIS).
echo Commands:

echo CLEAR Clear all previous equations and continue calculating.
echo KEEP Keep all previous equations and continue calculating.
echo EXIT Leave your calculating session
echo Enter in a command now.
set /p clearexitkeep=
if %clearexitkeep%==CLEAR goto loop
if %clearexitkeep%==EXIT (exit)
if %clearexitkeep%==KEEP goto noclear
goto misspell

তারপর clac.bat নামে সেভ করুন । তৈরি হয়ে গেলো ক্যালকুলেটর।

মোবাইল ফোন চার্জ মূত্র দিয়ে!

প্রস্রাব বা মূত্রকে বোধ হয় আর ঘেন্না করা ঠিক হবে না। কারণ, অদূর ভবিষ্যতে হয়ত আমার-আপনার অতি প্রয়োজনীয় মোবাইল ফোন বা অন্য যে কোনো ইলেকট্রিক গেজেট চার্জ করতে দরকার পড়বে মূত্রের। যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানীরা এমন কথাই বলছেন।
হ্যাঁ, ব্রিটেনের ব্রিস্টল ইউনিভার্সিটি আর রোবোটিক ল্যাবরেটরির বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি ঠিক একথাটাই জানিয়েছেন। তারা মূত্র দিয়ে মোবাইল ফোন চার্জ করতে সমর্থ হয়েছেন, যেটা দিয়ে স্বল্প পরিসরে খুদে বার্তা পাঠানো, ইন্টারনেটে ব্রাউজিং এবং সংক্ষিপ্ত কল করা গেছে। রয়েল সোসাইটি অব ক্যামেস্ট্রির জার্নাল ‘ফিজিক্যাল কেমিস্ট্র ক্যামিক্যাল ফিজিক্স’-এ গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে। গবেষকরা আশা করছেন, ভবিষ্যতে একটি ফোনসেট পুরো চার্জ করাসহ দৈনন্দিন কাজে ব্যবহৃত যে কোনো ইলেকট্রনিক গেজেটে চার্জ দেয়ার মতো পদ্ধতিও বের করা সম্ভব হবে এভাবে। গবেষক দলের সদস্য লোনিস লেরোপুলাস বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, আমরা আসলে এমন কিছু দিয়ে চার্জ দেয়ার পদ্ধতি বের করতে চেয়েছিলাম, যেটা কোনোদিনই শেষ হবে না।
বিজ্ঞানীরা কার্বন ফাইবার অ্যানোডের মধ্যে ব্যাকটেরিয়ার জন্ম দিয়ে সেগুলোকে সিরামিকের তৈরি একটা সিলিন্ডারে রেখে দেন। এরপর সেখানে মূত্র প্রবেশ করালে ব্যাকটেরিয়া মূত্রের মধ্যে থাকা রাসায়নিক উপাদানগুলো ভেঙে ফেলে। এ সময় যে বিদ্যুত্ উত্পন্ন হয় সেটা ক্যাপাসিটরে জমা করা হয়। আর তার মাধ্যমেই এটা পরবর্তীতে অনেকটা ব্যাটারির মতো কাজ করার শক্তি সঞ্চয় করে। সূত্র : ডিডব্লিউ

সৌরজগতের বাইরে নীল গ্রহের সন্ধান

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এই প্রথম সৌরজগতের বাইরেও একটি নীল গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন। সংবাদমাধ্যম ইয়াহু নিউজ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, নীল গ্রহটি পৃথিবী থেকে প্রায় ৬৩ আলোকবর্ষ দূরে। হাবল টেলিস্কোপে আবিষ্কৃত নীল গ্রহটির নাম এইচডি ১৮৯৭৩৩বি।
এ প্রসঙ্গে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব এক্সেটারের গবেষক ফ্রেডরিক পন্ট জানান, এবারই সত্যিকার অর্থে কোনো গ্রহের রঙ বের করা সম্ভব হয়েছে। এর আগে কখনও আমাদের সৌরজগতের বাইরের কোনো গ্রহের ক্ষেত্রে এমন সাফল্য অর্জিত হয়নি।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, গ্রহের অস্পষ্ট যৌগিক পদার্থের বিক্ষিপ্ত নীল রঙ বায়ুমণ্ডলে আলোড়ন সৃষ্টি করে। ফলে গ্রহটিকে নীল রঙের দেখায়। নতুন আবিষ্কৃত গ্রহটির রঙ নির্ণয় করতে গবেষক দলটি ওই গ্রহপৃষ্ঠে যে নক্ষত্রের আলো প্রতিফলিত হয়, তা পরিমাপ করেছিলেন।
গ্রহ পর্যবেক্ষণ বিষয়ে পন্ট বলেছেন, পরোক্ষভাবে গ্রহ পর্যবেক্ষণের জন্য মানুষ নতুন প্রক্রিয়া বের করছে। এ জন্যই আমি নিশ্চিত যে, এ প্রযুক্তিটি আরও উন্নত হবে। সূত্র : বিডিনিউজ

অনলাইনে কনভার্ট করুন ছবি, অডিও, ভিডিও সহ অনেক কিছু

online-convert.com   সাইটে গিয়ে ছবি, ডকুমেন্ট, অডিও, ভিডিও ইত্যাদি অসংখ্য ফরম্যাটে কনভার্ট করা যায়।
অপশন আছে দু’টি। চাইলে আপনার কম্পিউটার থেকে একটি ফাইল আপলোড করতে পারেন। অথবা ফাইলের url বা ঠিকানাও দিতে পারেন। এরপর নিচে কিছু ঐচ্ছিক অপশন আছে।
এগুলো পূরণ না করলেও চলবে। আগেই ঠিক করতে হবে কোন ফরম্যাটে রূপান্তর করবেন। এরপর ব্রাউজ করলে বা লিংক বসানোর পর Convert file লেখায় ক্লিক করলে ১ মিনিটের কম সময়েই এটি রূপান্তর হয়ে ডাউনলোড করার পপআপ দেখাবে। ব্যাস।

‘তায়েফ’-এর পার্বত্য অধিত্যকায় কিছু সময়



ঐতিহাসিক নগরী তায়েফ পরিভ্রমণের আকাঙ্ক্ষা ছিল দীর্ঘদিনের। ১৯৮৫ সালে হজ উপলক্ষে সৌদি আরব গিয়েও তায়েফ যাওয়া হয়নি। ২৬ বছর পর ওমরা পালনের উদ্দেশে মক্কা পৌঁছে সিদ্ধান্ত নিলাম, যে কোনো উপায়ে তায়েফ যেতে হবে। জেদ্দা-মক্কা-মদিনার বাইরে হাজীদের যাওয়া আইনত নিষিদ্ধ। পথে পথে রয়েছে চেকপোস্ট। পৃথিবীর কোনো দেশের ভিসা পাওয়া গেলে একজন পর্যটকের সে দেশের যে কোনো স্থান পরিভ্রমণ করতে সরকারি বাধা থাকে না। ব্যতিক্রম কেবল সৌদি আরব, মিয়ানমার অথবা এ ধরনের দু’চারটি রাষ্ট্র। হজ ও ওমরা পালনকারীদের জন্য সৌদি আরবের সব শহরে যাওয়া-আসার সুযোগ অবারিত থাকলে বহু ঐতিহাসিক স্থান দেখার সুযোগ যেমন সৃষ্টি হতো, তেমনি বৈদেশিক মুদ্রা আয়েরও ব্যবস্থা হতো। অবশ্য ভিজিট ভিসা থাকলে সৌদি আরবের যে কোনো স্থানে যেতে বাধা নেই। সাধারণ পর্যটকদের পক্ষে ভিজিট ভিসা জোগাড় করা রীতিমত কঠিন।

আমার অনুরোধে রিয়াদের বাংলাদেশ দূতাবাসে কর্মরত অনুবাদক অনুজপ্রতিম হাফিয সাদিক হোসাইন দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি স্বাক্ষরিত একটি অনুরোধপত্র এনে দিলে আমি অনেকটা স্বস্তি বোধ করি। দৈনিক কয়েক হাজার যানবাহন তায়েফ-মক্কা-তায়েফ মহাসড়কে চলাচল করে থাকে। নির্ধারিত চেকপোস্টে গাড়ির গতি শ্লথ করা বাধ্যতামূলক। দায়িত্বরত কর্মকর্তারা ইচ্ছে করলে সন্দেহভাজন গাড়ি দাঁড় করিয়ে যাত্রীদের আকামা, ভিসা, পাসপোর্টসহ সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পরীক্ষা করে দেখেন অথবা হাত নেড়ে চলে যাওয়ার ইঙ্গিত দেন। দুপুরে কড়াকড়ি তুলনামূলক কম। সম্ভবত গ্রীষ্মের দাবদাহের তীব্রতা, দ্বিপ্রহরের খাবার গ্রহণের তাড়া এবং নামাজের প্রস্তুতির কারণে কিছুটা শৈথিল্য দেখা দেয়। গাড়িতে শিশু ও মহিলা থাকলে অনেক সময় বিশেষ ছাড় পাওয়া যায়। সৌভাগ্য বলতে হবে, সে সুযোগটুকু আমরা পেয়েছি।

দিনটি ছিল জুমাবার। ছুটির দিন হওয়ায় গাড়ির চলাচল একটু বেশি। কাবাগৃহে জুমার নামাজ আদায়ের অব্যবহিত পর দু’টি গাড়ি নিয়ে আমরা তায়েফের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করি। ছোট ভাই হাফিয সাদিক হোসাইন, তাঁর স্ত্রী আশিকা আনসারী, মেয়ে আফিফা, ছেলে আবরার, ফুফাতো ভাই মাওলানা নু’মান, ছোট ভাই মাওলানা জাহিদ হোসেনের স্ত্রী কিশওয়ার হাসিনা, মেয়ে আরিয, ইমতিনান, আফনান ও ছেলে আহমদ ছিল আমার সফরসঙ্গী। আমি ছাড়া সফরসঙ্গীদের সবার আকামা থাকায় তারা প্রত্যেকে ছিল উত্ফুল্ল ও ফুরফুরে মেজাজে। চেকপোস্টের অজানা ভয়ে কাঁপছিল আমার তনুমন। অনেক সময় সৌদি পুলিশ অনুরোধপত্রের তোয়াক্কা করে না। নানা কারণে বাংলাদেশীদের তারা সম্মানের চোখে দেখে না। ধীর লয়ে আমাদের গাড়ি চেকপোস্টের অর্গল যে মাত্র পেরিয়ে গেল, আমি যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম। তায়েফ ভ্রমণের ইচ্ছে পূরণ হতে যাচ্ছে।

জানালার কাচ দিয়ে মক্কা-তায়েফ মহাসড়কের দু’পাশের বিস্তীর্ণ পর্বত, কন্দর ও উপত্যকার দৃশ্য উপভোগ করতে থাকি। আল্লাহ তায়ালার কী লীলাখেলা! গাছপালাবিহীন পর্বতমালা মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। আমাদের বহনকারী ল্যান্ডক্রুজার ক্রমান্বয়ে পাহাড়ের কোলঘেঁষে উপরে উঠতে লাগল। সৌদি আরব সরকার কঠিন পাহাড়ের গা কেটে দ্বিমুখী রাস্তা (Two way traffic) তৈরি করেছে, যাতে সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়ানো যায়। একেক পাহাড়ের চূড়া থেকে অন্য পাহাড়ের চূড়া পর্যন্ত রয়েছে বেশ কটি ওভারব্রিজ। ১৯৬৫ সালে বাদশাহ ফয়সাল এ পার্বত্য সড়ক নির্মাণ করেন। পার্বত্য পথে রয়েছে ৯৩টি বাঁক। সড়কের নির্মাণশৈলী আধুনিক ও মনোমুগ্ধকর।

প্রস্তরপূর্ণ সমতল ভূমি থেকে সর্পিল পথে যতই উপরে যাচ্ছি, শিহরিত হচ্ছি। নিচের দিকে তাকালে রক্ত হিম হয়ে যায়। পাহাড়ি পথের বাঁকে বাঁকে প্রলম্বিত কেশরধারী বানরের ঝাঁক চোখে পড়ার মতো।

সাইনবোর্ডে লেখা আছে (Beware of Monkey) ‘বানর থেকে সাবধান’। পাহাড়ের কোলে গড়ে ওঠা এক ধরনের উদ্ভিজ্জ ফলমূল তাদের একমাত্র খাবার। এসব বন্যখাদ্য অপ্রতুল বলেই হয়তো অনেক সময় তারা লোকালয়ে অথবা পর্যটকদের ওপর হামলে পড়ে। শিশুদের হাতে রাখা খাবার অনেক সময় বানর ছোঁ মারতে পারে—এমন আশঙ্কাও উড়িয়ে দেয়া যায় না। এরই মধ্যে আমরা ‘আল হাদা’ নামের অধিত্যকায় উপনীত হয়েছি। মক্কার সমতল ভূমিতে যেখানে প্রচণ্ড গরম, আল হাদার পাহাড় চূড়ায় শীতল হাওয়ার পরশ। আল হাদা ভূমি থেকে ১৮৭৯ মিটার উচ্চতায় তায়েফ পর্বতমালায় অবস্থিত ছোট্ট শহর। নবাগত পর্যটকরা ব্যায়াম, সিঁড়ি আরোহণ অথবা ভারী দ্রব্যসামগ্রী বহনের সময় অক্সিজেন-স্বল্পতা অনুভব করে থাকেন।

তায়েফ মক্কা প্রশাসনিক প্রদেশের ঐতিহাসিক একটি শহর। সারওয়াত পর্বতমালা সংলগ্ন উপত্যকা থেকে এর উচ্চতা ৬.১৬৫ ফুট। ৫ লাখ জনঅধ্যুষিত তায়েফ আঙুর, আনার, গোলাপ ও মধু উত্পাদনের বিখ্যাত কৃষি অঞ্চল। প্রতি বছর গ্রীষ্ম মৌসুমের প্রচণ্ড দাবদাহে সৌদি কেন্দ্রীয় সরকারের কার্যক্রম তায়েফ থেকে পরিচালিত হয়। তায়েফের জনগোষ্ঠীর বিরাট অংশ হাম্বলি ও মালিকি মাজহাবের অনুসারী। বিভিন্ন আরব দেশ, তুরস্ক ও এশিয়ার বংশোদ্ভূত বেশ কিছু সংখ্যক বিদেশি জনগণও তায়েফে বসবাস করেন। তায়েফকে বলা হয় ‘হেজাজের বাগান’। তায়েফে রয়েছে একটি আধুনিক বিমানবন্দর। জেদ্দা, রিয়াদ এবং পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে নিয়মিত ফ্লাইট চলাচল করে। তায়েফ অঞ্চলের বেদুইনরা কঠোর পরিশ্রমী। শস্যচাষ ও পশুপালন তাদের মূল পেশা। সমতল ভূমি বেশ উর্বর। সৌদি আরবের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বতমালা ‘ইবরাহিম জাবল’ তায়েফ থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত পর্যটনের জন্য অত্যন্ত উপযোগী স্থান।

মক্কা থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত তায়েফ প্রাচীনকাল থেকে ধর্মীয় গুরুত্ব বহন করে আসছে। আইয়ামে জাহেলিয়া যুগের মানুষ তায়েফের নারী দেবী ‘লাত’ মূর্তির পূজা করত। সে যুগে এখানে বাস করত ছাকিফ গোত্র। উরওয়াহ ইবন মাসউদ, আবদ ইয়া লায়ল ইবন আমর, উসমান ইবন আবুল আস ছিলেন সে যুগের নামকরা গোত্র অধিপতি। ৬৩০ সালে তায়েফের কাছে সংঘটিত হয় রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নেতৃত্বে হুনায়েনের যুদ্ধ।

অনেক বিখ্যাত ব্যক্তি তায়েফে জন্মগ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে যিয়াদ বিন আবি সুফিয়ান (রা.), মুগিরা ইবন শো’বা (রা.), হাজ্জাজ ইবন ইউসুফ, আল মুখতার, ইরাকের বাদশাহ ফয়সাল, নায়িফ ইবন আবদুল আযিয, হজরত উসমান ইবন আফফান (রা.), মুতলাক হামিদ আল উতায়বী, ব্রুনাই দারুসসালামের তৃতীয় রাষ্ট্রপ্রধান সুলতান শরীফ আলী অন্যতম।

বহু বিখ্যাত ব্যক্তি জীবনের একটি অংশ তায়েফে কাটিয়েছেন। তাদের মধ্যে মুহাম্মদ ইবনে কাসিম, খোলাফায়ে রাশেদিনের তৃতীয় খলিফা হজরত উসমান ইবন আফফান (রা.), তুর্কি উসমানি খিলাফতের সংবিধান রচয়িতা আহমদ শফিক মিফহাত পাশা (১৮২২-১৮৮৪), মুহাম্মদ মুহসিন খান, হজরত আবদুল ইবন আববাস (রা.)। তায়েফ মানে প্রদক্ষিণকারী, তাওয়াফকারী। ছুটির দিনে এটা সর্বস্তরের মানুষের পর্যটন ও মিলনকেন্দ্র।

তায়েফ থেকে ৪০ কিলোমিটার উত্তরে রয়েছে প্রাক-ইসলামী যুগের ঐতিহাসিক স্থান, যেখানে বার্ষিক মেলা বসত। বিভিন্ন গোষ্ঠীর সর্দাররা রাজনৈতিক, সামাজিক ও বাণিজ্য বিষয়ে মতবিনিময় করতেন। এখানে গদ্য সাহিত্য ও কবিতা প্রতিযোগিতার আসর বসত। শ্রেষ্ঠ কবিতা পর্বতগাত্রে উত্কীর্ণ করে রাখা হতো। এখনও ব্যাসালটিক পাথরে এসব স্মৃতিচিহ্ন রক্ষিত আছে। এর পাশে অবস্থিত তুর্কি দুর্গ। এখানে বহু যুদ্ধ সংঘটিত হয়। বেশ কিছু কবরের চিহ্নও বিদ্যমান। কথিত আছে, ১৯১৭ সালে লরেন্স অব অ্যারাবিয়া এখানে যুদ্ধরত ছিলেন। আল হাদা ও শেরাটন হোটেলের মাঝখানে রয়েছে জীবন্ত বন্যপ্রাণী, পাখি ও বনজ-ফলদ গাছগাছালির সংগ্রহশালা। পর্বতচূড়া থেকে সূর্যাস্তের দৃশ্য বড়ই মনোহর।

এ তায়েফ শহরের সঙ্গে বিশ্বনবী হজরত মোহাম্মদ (সা.)-এর জীবনের এক বেদনাবিধুর স্মৃতি বিজড়িত। এখানে দশদিন অবস্থান করে তিনি আল্লাহর বাণী প্রচারে প্রয়াসী হন। কিন্তু বিপথগামী তায়েফবাসী প্রস্তর নিক্ষেপ করে তাঁকে শহর থেকে বিতাড়িত করে দেয়। অপমান ও লাঞ্ছনা সহ্য করেও তিনি তায়েফবাসীকে অভিসম্পাত করেননি।

আবু তালিবের মৃত্যুর পর রাসুলুুল্লাহ (সা.)-এর ওপর কুরাইশদের নির্যাতনের মাত্রা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পায়। আবু লাহাব ও অন্যান্য দুশমন মনে করল, তার ওপর চাচা আবু তালিবের অভিভাবকত্বের স্নেহছায়া উঠে গেছে। এখন তাঁকে রক্ষা করার কেউ নেই। নিন্দাবাদ ও নিগ্রহের মধ্যেও রাসুলুল্লাহ (সা.) দ্বীনি দাওয়াতের প্রয়াস অব্যাহত রাখেন আল্লাহ্ তায়ালার ওপর ভরসা রেখে। পরিবর্তিত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে রাসুলুল্লাহ (সা.) যায়দ ইবন হারিছাকে সঙ্গে নিয়ে তায়েফ রওনা হন। তায়েফের জনগণের অন্তরে ইসলামের দাওয়াত প্রভাব ফেলতে পারে—এ প্রত্যাশা নিয়ে তিনি ছাকিফ গোত্রের তিনজন প্রতাপশালী নেতার ঘরে উপস্থিত হন। তারা হচ্ছেন আবদু ইয়া লাইল, আবদু কালাল এবং হাবীব। মাতৃকুলের দিক থেকে তারা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আত্মীয়। তিনি তাদের সঙ্গে ইসলাম প্রচার এবং ইসলামের প্রতিপক্ষ শক্তির মোকাবিলায় তাদের সহায়তা কামনা করেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য, তারা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে নিতান্ত অভদ্র

ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করে বসে। প্রথম জন বলল, তোমাকে কি আল্লাহই পাঠিয়েছেন? দ্বিতীয় জন বলল, রাসুল বানানোর জন্য তোমাকে ছাড়া আল্লাহ আর কাউকে পাননি? তৃতীয় জন বলল, খোদার শপথ! তোমার সঙ্গে আমরা কথা বলব না; কারণ তোমার দাবি অনুযায়ী যদি তুমি সত্যিকার অর্থে আল্লাহর রাসুল হয়ে থাক, তা হলে সওয়াল-জওয়াব ও তর্ক-বিতর্কের জন্য আমরা ধ্বংস হয়ে যাব। আর যদি নবুয়তের মিথ্যা দাবিদার হও, তাহলে তোমার মতো মানুষের সঙ্গে আমাদের কথা বলা অনুচিত।

রাসুলুল্লাহ (সা.) তাদের বক্তব্য শুনে সম্যক বুঝতে পারেন যে, তায়েফের পরিস্থিতিও অনুকূল নয় এবং এখানে বেশিক্ষণ অবস্থান করা সমীচীন নয়। তিনি সেখান থেকে প্রত্যাবর্তনের সময় ছাকীফ গোত্রের দলপতিদের অনুরোধ করলেন, যেন তার এখানে আসার খবর গোপন রাখা হয়। কেননা কুরাইশরা যদি তার তায়েফ সফরের সংবাদ জানতে পারে, তা হলে নির্যাতনের মাত্রা আরও আশঙ্কাজনক পর্যায়ে উন্নীত হবে। উত্তরে দলপতিরা বলল, তোমার যেখানে ইচ্ছা চলে যেতে পার; তবে আমাদের শহরের চৌহদ্দির ভেতরে থাকতে পারবে না। অতঃপর তারা আল্লাহর রাসুলের পেছনে তাদের দাস ও সমাজের লুচ্চা-লোফারদের লেলিয়ে দেয়। তারা চিত্কার করে গালি দিতে লাগল। ইত্যবসরে রাসুলুল্লাহ ( সা.)-এর চলার পথের চারিদিকে লোক জমায়েত হয়ে গেল। প্রত্যেকে একযোগে তাঁর প্রতি পাথর ছুঁড়তে লাগল। প্রস্তরাঘাতের ধকল সইতে না পেরে তিনি যখন বসে পড়তেন, শত্রুরা হাত ধরে আবার দাঁড় করে দিত। এতে আঘাতের পর আঘাতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র দেহ থেকে ফিনকি দিয়ে রক্ত বের হতে থাকে। জুতাদ্বয় রক্তে ভরে যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বাঁচাতে গিয়ে যায়দ ইব্ন হারিছার মাথা কয়েক স্থানে ফেটে যায়। অবশেষে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁরা দু’জন নিকটবর্তী আঙুরের বাগানে আশ্রয় নেন। বাগানের মালিক ছিল উতবা ও শায়বা—ইসলামের প্রতি যাদের শত্রুতা ছিল সর্বজনবিদিত। কিছুক্ষণ পর ওই স্থান তিনি ত্যাগ করেন। এরই মধ্যে জিবরাইল (আ.)-এর নেতৃত্বে একদল ফেরেশতা এসে রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলেন, আপনি যদি হুকুম করেন, তাহলে এ অপরাধীদের দু’পাহাড়ের মাঝখানে রেখে আমরা পিষ্ট করে ফেলব। প্রতিউত্তরে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘না, আমি আশা রাখি আল্লাহ তায়ালা তাদের সন্তানদের মধ্যে এমন লোক পয়দা করবেন, যারা আল্লাহর ইবাদত করবে এবং শিরক করবে না।’ শত্রুর প্রতি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ক্ষমা ও মহানুভবতা দুনিয়ার বুকে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। তাঁর এ প্রত্যাশা আল্লাহ তায়ালা অপূর্ণ রাখেননি। পরে তায়েফের প্রতিটি মানুষ ইসলাম গ্রহণ করে ধন্য হন। প্রতিপক্ষের সঙ্গে মানবিক আচরণের ধারাবাহিকতা মদিনার সমাজ জীবনেও বরাবর অব্যাহত থাকে (সীরাতে হালাবীয়া, ২খ, পৃ. ৪৩৭-৪৫০; ইব্ন হিশাম, সীরাতুন্নবী, ১খ, পৃ. ৪৬৮-৪৭০; তারীখে তাবারী, ১খ, পৃ. ১০৮-১১০)।

কিছুক্ষণ আল-হাদায় অবস্থান করে তায়েফের সর্বোচ্চ পবর্তশৃঙ্গে আরোহণ করি, যেখানে বর্ষাকালে মেঘমালা মানুষের শরীরের সঙ্গে ধাক্কা খায়। প্রশস্ত সড়কে উঁচু-নিচু উপত্যকা অতিক্রম করতে বেশ ভালো লাগে। চারদিকে সবুজের সমারোহ। বিস্তীর্ণ ভূমিতে খেজুর, আনার, আঙুর, পিচ (খোখ), আঞ্জির, আখরোট ও শাক-সবজির বাগান। অনেকটা দেখতে বাংলাদেশের মতো। পথের ধারে গাছের ছায়ায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দুপুরের খাবার গ্রহণের দৃশ্য বনভোজনের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। আমরাও বনবীথিপূর্ণ একটি মনোরম স্থান বেছে নিই আহার ও বিশ্রামের জন্য। নৈসর্গিক শোভা ও শীতল হাওয়ার পরশ পথের ক্লান্তিকে পরাভূত করে। আবীরের আম্মা (ভাই হাফেজ জাহিদের স্ত্রী, কিশওয়ার) বিরিয়ানি, স্প্রাইট, মিনারেল ওয়াটার, শীতল পাটি, গামছাসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী সঙ্গে আনার কারণে আমাদের অসুবিধায় পড়তে হয়নি। ক্যাফেতে আরবীয় খাবার বাংলাদেশীদের কাছে অনেক সময় উপাদেয় মনে হয় না। আশপাশে প্রচুর আধুনিক কটেজ পর্যটকদের ভাড়া দেয়ার জন্য সুসজ্জিত অবস্থায় রয়েছে। এ দেশের জনগণ গ্রীষ্মকালীন ছুটি কাটানোর জন্য তায়েফকে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকেন।

আছরের নামাজ আদায় করলাম শহরের প্রাণকেন্দ্রের অন্যতম আকর্ষণ মসজিদে আব্বাসে। আধুনিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত বিশাল আয়তনের মসজিদ। এর পূর্বে অবস্থিত রইসুল মুফাসসিরিন হজরত আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা.)-এর সমাধি। নামাজ শেষে আমরা তাঁর কবর জিয়ারত করি। সমাধিগাত্রে একটি ঘটনা উত্কীর্ণ আছে—

‘হজরত আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা.) তায়েফে ইন্তেকাল করেন। জানাজার নামাজের জন্য তাঁর লাশ বের করা হলে চলার পথে একটি পাখি তাঁর কাফনের ভেতরে ঢুকে পড়ে। পাখিটি আর বের হয়নি। এ রকম পাখি আগে আর কোনো দিন দেখা যায়নি। কবরে যখন তাঁর লাশ দাফন করা হয়, কবরের প্রান্ত থেকে (‘হে প্রশান্ত আত্মা! তুমি ফিরে এসো তোমার রবের প্রতি সন্তুষ্ট চিত্তে ও সন্তোষভাজন হয়ে। অতঃপর আমার বান্দাদের মধ্যে শামিল হয়ে যাও, আর প্রবেশ করো আমার জান্নাতে’ আল ফজর: ২৭-৩০) তেলাওয়াত করতে শোনা যায়। তেলাওয়াতকারীকে দেখা যায়নি।

[(ক) আহমদ ইবনে হাম্বল, ফাযায়িলুস সাহাবা, মুআসিসসাতুর রিসালা, বয়রুত, লেবনান (প্রথম সংস্করণ: ১৪০৩ হি. = ১৯৮৩ খ্রি.), খ. ২, পৃ. ৯৬২, হাদিস : ১৮৭৯, (খ) কাযী সানাউল্লাহ পানিপথী, আত-তাফসীরুল মাযহারী, মকতাবায়ে রশিদিয়া, করাচি, পাকিস্তান (১৪১২ হি. = ১৯৯১ খ্রি.), খ. ১০, পৃ. ২৬৩, (গ) আত-তাবারানী, আল-মু’জামুল কবীর, মাকতাবাতু ইবনে তায়মিয়া, কায়রো, মিসর, খ. ১০, পৃ. ২৩৬, হাদিস : ১০৫৮১]

একটি ব্যাপার লক্ষণীয় যে, প্রখ্যাত সাহাবি হজরত আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা.)-এর সমাধিটি বেশ উঁচু দেয়াল দিয়ে আড়াল করে রাখা হয়েছে, যেন কবরটি চোখে দেখা না যায়। বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই উঁচু দেয়ালের আড়ালে কবর আছে। আলিমের পোশাকধারী এক ব্যক্তির কাছে যখন এ সাহাবির কবরের লোকেশন সম্পর্কে জানতে চাইলাম, তিনি অনেকটা বিরক্তি প্রকাশ করে বললেন, কেন? কবর দিয়ে কী করবেন? সৌদি আলেম ও সৌদি সরকার বিদআত প্রতিরোধের নামে কবর জিয়ারতকেও নিরুত্সাহিত করে থাকে। ঠিক একই দৃশ্য বদরের প্রান্তরেও দেখেছি। বদরের শহীদরা যে প্রান্তরে সমাহিত, তার চারদিকে বিশাল এলাকাজুড়ে রয়েছে সুউচ্চ দেয়াল, যেন কবরের মাটি জিয়ারতকারীদের চোখে না পড়ে। কিছুক্ষণ পর পর মোবাইল পুলিশ এসে জিয়ারতকারীদের তাড়ায়; দাঁড়াতেই দেয় না। এ দৃশ্য আমাদের অবাক করে। অথচ কবর জিয়ারত সুন্নাতে রাসুল (সা.) ও সুন্নাতে সাহাবা (রা.)। তুর্কিরা যখন হিজাজের শাসন ক্ষমতায় ছিল, তখন তাঁরা কবরের ওপর দরগা তৈরি করে অনেক বিদআতের প্রচলন করে। অপরদিকে বর্তমান সৌদি সরকার কবর জিয়ারতের অনুমতি দিতেও কুণ্ঠিত। আমার বিবেচনায় উভয়ের গৃহীত পদক্ষেপ বাড়াবাড়ি।

তায়েফের যে স্থানে পাথর ছুঁড়ে আল্লাহর রাসুল (সা.)-কে ক্ষত-বিক্ষত করা হয়েছিল, সেখানে একটি ছোট ইবাদতখানা গড়ে ওঠে। সূর্যাস্তের সময় আমরা সেখানে পৌঁছে মাগরিবের নামাজ আদায় করি। উঁচু পাহাড়ের ঢালুতে পাথরটি অলৌকিকভাবে ১৫০০ বছর ধরে আটকে আছে। রাতের তায়েফ যেন এক স্বপ্নপুরী। ডানে-বাঁয়ে বৈদ্যুতিক বাতির ঝলকানি। পাহাড়ের অধিত্যকা থেকে চোখ ফেললে যেন মনে হয় চারদিকে থোকায় থোকায় জোনাক জ্বলছে। রাতে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি পথে না এসে রিয়াদ-মক্কা মহাসড়কের (সায়লুল কবির) সমতল ধরে জেদ্দার উদ্দেশে তায়েফ ত্যাগ করি। তায়েফ পরিভ্রমণের পবিত্র সুখানুভূতি স্মৃতির তটরেখায় অনেক দিন উজ্জ্বল হয়ে থাকবে।

drkhalid09@gmail.com

আরবী কিবোর্ড ছাড়াই ব্লগে ও যেকোন ওয়েবপেজে আরবী পোস্ট ও মন্তব্য লিখুন।

যদি আপনি মজিলা ফায়ারফক্স ব্রাউজার ব্যাবহার করেন তাহলে আপনার কোন আরবী কি-বোর্ড না থাকলেও ব্লগে মন্তব্য বা পোস্ট দেবার সময় আরবী টাইপ করতে পারবেন। এজন্যে একটি Add-on ইন্সটল দিতে হবে। এই লিঙ্কে ক্লিক করে Yoolki Arabic Keyboard নামক Add-on টির add to firefox লেখায় ক্লিক করতে হবে। এরপর এটা ডাউনলোড হয়ে ইন্সটল হবার অপশন হবে। ইন্স্টল করে ব্রাউজার রিস্টার্ট করুন (কম্পিউটার রিস্টার্ট নয়- অপশন দেখাবে, সহজেউ বুঝবেন- মানে ব্রাউজার ক্লোজ করে আবার ওপেন করা)।
এবার যেকোন ব্লগে বা সাইটে যেকোন ইনপুট লেখার জায়গায় রাইট-ক্লিক করে "Write Arabic here" -এ ক্লিক করুন। নিচের পপআপটি আসবে।


এবার এখানে কোন ইংরেজি টেক্সট লিখলে তা প্রতি-বর্ণায়ণ (transliteration) হয়ে আরবী হয়ে যাবে। অথবা আরবীতে অনুবাদও করা যাবে।
যেমন আমি লিখেছিলাম ana যা হয়ে গেল انا ।
সমস্যা হলে পপআপের হেলপ দেখতে পারেন। তবে সহজেই বুঝে ফেলার কথা। এছাড়াও এ পৃষ্ঠায় বিস্তারিত নিয়ম কানুন দেখে নিতে পারেন। আমি একটি স্ন্যাপশট দিচ্ছি
ধন্যবাদ। আশা করি কাজে লাগবে।

মহাকাশে জঞ্জাল সাফ করবে ‘ডেয়স’

পৃথিবীর ওপর মহাকাশের চারদিক ভরে গেছে আবর্জনায়। সংখ্যাটা প্রায় ২০ কোটি। পৃথিবীর কক্ষপথে যেখানে টেলিকমিউনিকেশন স্যাটেলাইট থাকে এবং ভূপৃষ্ঠের কাছের অংশেই এগুলোর সংখ্যা বেশি। তাদের গতি অবিশ্বাস্যরকম দ্রুত হওয়ায় বিশাল বিপদের আশঙ্কা থেকে যায়। জার্মান এয়ারোস্পেস সেন্টারের হাউকে ফিডলার বলেন, মানুষের হাতের মুঠোর মতো ছোট্ট একটি টুকরোও যদি স্যাটেলাইটকে ধাক্কা মারে, তবে সেটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে। ঘণ্টায় কয়েকশ’ কিলোমিটার বেগে একটা গাড়ি ধেয়ে এলে যা হয়, মহাকাশে ছোট্ট একটি টুকরোও সেই ক্ষমতা রাখে।
বিকল স্যাটেলাইট ও রকেটের ভাঙা অংশই হলো আসল সমস্যা। ২০০৯ সালে মহাকাশে রাশিয়া ও আমেরিকার দুই স্যাটেলাইটের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটেছিল। তাদের ভাঙা টুকরোগুলো মেঘের মতো গোটা বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়েছিল। ফলে আরও এমন দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়ে গিয়েছিল। তাই জার্মান এয়ারোস্পেস সেন্টারের গবেষকরা এমন আবর্জনা সাফ করতে চান। কক্ষপথে এই অভিযানের পোশাকি নাম ‘ডেয়স’।
এ যেন এক সাফাই কর্মী, যে পুরনো স্যাটেলাইট ধরে তাতে জ্বালানি ভরে আবার মহাকাশে ছেড়ে দেবে। অথবা বিকল স্যাটেলাইট পৃথিবীর দিকে ঠেলে দেবে, যাতে সেটি বায়ুমণ্ডলের ঘর্ষণে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। ইঞ্জিনিয়াররা গবেষণাগারে বিকল স্যাটেলাইটের কাছে এগোনোর পদ্ধতি পরীক্ষা করছেন। তবে কাছে যাওয়ার আগে তাদের এমনসব তথ্যের প্রয়োজন, যা শুধু ঘটনাস্থলে গিয়েই সংগ্রহ করা সম্ভব। সাফাইয়ের আগে এটাই প্রথম পদক্ষেপ। ডিএলআর-এর হাউকে ফিডলার বলেন, প্রথমে ছবি তুলে দেখতে হবে স্যাটেলাইট সোজা এগোচ্ছে, নাকি মাতালের মতো টলছে? কোনদিকে ঘুরছে? ঘোরার অক্ষইবা কি? এবার হাত বাড়িয়ে সেটিকে ধরতে চাইলে জানতে হবে, ঠিক কোন অংশ ধরা যায় বা আদৌ ধরা সম্ভব কি-না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্যাটেলাইটের নকশাও পাওয়া যায় না।
মহাকাশে কোনো কিছু ধরার পরীক্ষা চলছে। মাধ্যাকর্ষণহীন অবস্থায় রোবটের হাত সামান্য এদিক-ওদিক হলেই স্যাটেলাইট টলে যেতে পারে। ইঞ্জিনিয়াররা এখানে সেই জটিল প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের জন্য কম্পিউটার প্রোগ্রাম তৈরি করতে পারেন, পরীক্ষাও চালাতে পারেন। গোটা বিশ্বে অন্য কোথাও এমন উচ্চপর্যায়ের গবেষণার সুযোগ নেই। প্রথমে ভূপৃষ্ঠ থেকে রোবট নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ডিএলআর-এর জর্ডি আর্টিগাস বলেন, প্রথমে রোবটের হাত ও বিকল স্যাটেলাইটের মধ্যে যোগাযোগের তথ্য পৃথিবীতে পাঠানো হয়। সেই তথ্যের ভিত্তিতে অপারেটর রোবটকে পরিচালনা করেন। বছর চারেকের মধ্যেই মহাকাশে জঞ্জাল সাফের প্রথম অভিযান শুরু হতে পারে। তবে তার শর্ত হলো—যেসব দেশ বড় আকারের মহাকাশ অভিযান চালায়, তাদের সেই ব্যয় বহন করতে হবে। সূত্র : ডিডব্লিউ

পরিধানযোগ্য কম্পিউটার ‘গুগল গ্লাস’

File:Google Glass Explorer Edition.jpeg২০১১ সালের এপ্রিলে বিস্ময়কর একটি চশমার ধারণা দিয়ে বিশ্বে হৈচৈ ফেলে দিয়েছিল গুগল। এখন পর্যন্ত ‘গুগল গ্লাস’ নামে পরিচিত এই বস্তুটি আসলে মোবাইল কম্পিউটার আর চশমার মিলিত এক রূপ।
এই চশমাটি দিয়ে ছবি তোলা, ইন্টারনেট ব্যবহার, ভিডিও রেকর্ড করা, এসএমএস পাঠানো—এমন সব কাজ করা যায়, অর্থাত্ হালের স্মার্টফোন দিয়ে যা করা সম্ভব, তা-ই করা যায় চোখে পরা এই চশমাটি দিয়ে।
গুগলের এই চশমাটি এখন ব্যবহার করছেন নির্বাচিত কিছু ব্যক্তি, যার মধ্যে রয়েছেন সফটওয়্যার ডেভেলপার, প্রোগ্রামার ইত্যাদি। তাদের দেয়া বিভিন্ন পরামর্শের ভিত্তিতে তৈরি করা হবে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য চশমা। নির্বাচিত এই ব্যক্তিরা দেড় হাজার ডলার দিয়ে চশমাটি কিনেছেন।
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ প্রচারণার উদ্দেশ্যে আকাশ থেকে ছবি তুলেছে। আছে বহিরাগতদের তোলা কিছু ছবিও। এসব বিচ্ছিন্ন ছবি ছাড়া অন্য কোনো উত্স নেই। ফলে সামগ্রিক চিত্র পাওয়া কঠিন। গুগল এসব খণ্ডচিত্র জুড়ে এক সার্বিক চিত্র দিতে চাইছে।
গুগলের নির্বাহী চেয়ারম্যান এরিক স্মিডট বলেছেন, কিছুদিনের মধ্যেই চশমাটি বাজারে আসতে পারে। আর দামটা স্মার্টফোনের চেয়ে বেশিই হবে বলে আগেই জানিয়েছিল গুগল।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে গুগলের একটি সম্মেলনে এই বিস্ময়কর চশমা নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। প্রোগ্রামারদের এই সম্মেলনে অনেকেই চশমা পরে উপস্থিত হয়েছিলেন। সেখানেই ফেসবুক আর টুইটার গুগল গ্লাসের জন্য তৈরি অ্যাপের উদ্বোধনী ঘোষণা দেয়। এর ফলে ব্যবহারকারীরা চশমা দিয়ে ছবি তুলে সঙ্গে সঙ্গে সেটা ফেসুবকে দিয়ে দিতে পারবেন, তেমনি সেটা পোস্ট করা যাবে টুইটারেও।

কিছু বিষয়ে আপত্তি
গুগল গ্লাস এখনও সাধারণের কাছে না এলেও আইন প্রণেতা থেকে শুরু করে অনেকেই এর কিছু বিষয় নিয়ে আপত্তি তুলেছেন। যেমন ভিডিও রেকর্ডিং সুবিধা থাকায় যত্রতত্র এর ব্যবহার ঠিক হবে কিনা, সেটা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যেমন গুগলের সম্মেলনেই অনেককে এই চশমা পরে টয়লেটে যেতে দেখা গেছে। যদিও তারা বলছেন, ভুল করেই তারা ভিডিও ক্ষমতাসম্পন্ন এই চশমা পরে টয়লেটে চলে গিয়েছিলেন, তবুও সেটা ঠিক হয়নি বলেই মনে করছেন অনেকে।
এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রে অনেক ক্যাসিনো ও বারে গুগল গ্লাস নিয়ে ঢোকাটা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

গুগলের বক্তব্য
গুগল কর্তৃপক্ষের দাবি, যেহেতু কম্পিউটারের ক্ষমতাসম্পন্ন চশমার ব্যবহার এখনও নতুন পর্যায়ে রয়েছে, তাই টুকটাক ভুল হতে পারে। যেমনটা হয়েছিল মোবাইল ফোন আসার সময়। কিন্তু যখন মোবাইলের ব্যবহার বেড়ে গেল তখন ব্যবহারকারীরা নিজে থেকেই কিছু নিয়ম মেনে চলা শুরু করে। যেমন বাসে থাকার সময় মোবাইলে জোরে কথা না বলা, বৈঠকে থাকার সময় রিংটোন বন্ধ করে রাখা ইত্যাদি। গুগল গ্লাসের ব্যবহারও যখন বাড়বে, তখনও মানুষ নিজের মতো করে নিয়ম বানিয়ে নেবে বলেই মনে করছে গুগল কর্তৃপক্ষ।
বিজ্ঞান ও কম্পিউটার

ব্লগে ট্রাফিক বাড়ানোর ৩০ পদ্ধতি

ব্লগের জন্য ট্রাফিক গুরুত্বপূর্ন। ট্রাফিক না থাকলে বিরাট ব্লগ হয়েও কোন লাভ নেই। আর ট্রাফিকের জন্য দরকারী কোয়ালিটি কন্টেন্ট। তার সাথে সাথে ট্রাফিক বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন উপায়ে চেষ্টা করা।
যেমন আমি ট্রাফিক বাড়ানো নিয়ে ৩০ টা উপায়ের একটা লিস্ট দিলাম।

১। "6 ways to get Traffic" "5 best educational blog"-- এরকম নাম্বার যুক্ত পোস্ট
লিখুন।লিস্ট পোস্ট। পাঠক এগুলো বেশী পছন্দ করে।
২। ব্লগে বেশী বেশী পোস্ট করার চেষ্টা করুন।কোয়ালিটির দিকে দৃষ্টি দিয়ে অবশ্যই।
৩। সার্চ ইঞ্জিন গুলোতে সাইট সাবমিট করুন। এখানে এড মী ব্যবহার করতে পারেন একসাথে ২৫ টা সার্চ ইঞ্জিনে সাবমিট করতে।
৪। ওডিওগো ব্যবহার করে সাইটের পডকাস্ট বানান। তারপর পডকাস্ট ডিরেক্টরী গুলোতে সাবমিশন করুন।
৫। প্রশ্ন উত্তর সাইট যেমন ইয়াহু আন্সার,  আন্সার ডট কম, ফর্মস্প্রিং এগুলো ব্যবহার করুন। কোন কোন দিন আমার ব্লগের ৮০ ভাগ ট্রাফিক ই আসে ইয়াহু আন্সার থেকে।
৬। ডিগ এবং স্টাম্বলাপনে লিংক সাবমিট করুন।  স্টাম্বলাপন ট্রাফিকের জন্য অন্যতম সেরা সাইট। কিন্তু এরা এক সাইটের বেশী লিংক সাবমিট করলে সাইট ব্লক করে দেয়। তাই অন্য বিভিন্ন সাইটের ও লিংক সাবমিট করতে হবে মাঝে মাঝে।
৭। আরটিকেল ডিরেক্টরী ইজিনার্টিকেল এ আর্টিকেল সাবমিট করতে পারেন।
৮। ব্লগে বেশী ছবি, এফিলিয়েট লিংক ব্যানার ইত্যাদি ব্যবহার করে লোডিং টাইম বাড়িয়ে দিবেন না। এতে মানুষ বিরক্ত হয়। ট্রাফিক কমে।
৯। পিং সার্ভিস পিংলার এবং পিং গট   পিং ও ম্যাটিক ব্যবহার করুন।
১০। হাব পেজে আপনার ব্লগ নিয়ে সুন্দর একটি পোস্ট দিন। হাব পেজ কোয়ালিটির ব্যাপারে অনেক সচেতন। আপনার পোস্ট ভালো মানের নাহলে তারা আনপাবলিশ করে দিবে। তাই সাইজে বড় এবং অরিজিনাল কিছু ছবি দিয়ে ভালো পোস্ট দিন।
১১। ব্লগ ক্যাটালগে ব্লগ সাবমিট করুন।
১২। বিভিন্ন ফোরামে বা কমিউনিটি তে ব্লগের জন্য একাউন্ট খুললে ইউজার নেম ব্লগের যে নাম সেটাই দিন। এতে পরিচিতি বাড়বে।
১৩। ব্লগের পোস্ট পিডিএফে রুপান্তর করে লিংক যুক্ত করে পিডিএফ সাইট স্ক্রি বিডি তে সাবমিট করতে পারেন।
১৪। আপনার ব্লগের জন্য উইকি পেজ বানাতে পারেন। লক্ষ্য রাখবেন যেন বিজ্ঞাপন মূলক না হয়।
১৫। স্কুইডো তে লেন্স বানাতে পারেন আপনার ব্লগ নিয়ে।
১৬। কমেন্টলাভ যুক্ত ব্লগে কমেন্ট করতে পারেন। কমেন্ট লাভ কমেন্টের নিচে আপনার সর্বশেষ পোস্ট দেখাবে। এতে ভালো ট্রাফিক পাবেন। কমেন্ট লাভ যুক্ত ব্লগ পেতে কমেন্টলাভ ব্লগ সার্চ ব্যবহার করতে পারেন।
১৭। টিউটোরিয়াল সাইটে টিউটোরিয়াল লেখতে পারেন। এখান থেকেও প্রচুর ট্রাফিক আসে।
১৮। ব্লগ ডিরেক্টরী এবং ওয়েবসাইট ডিরেক্টরীতে সাইট সাবমিট করুন। এখানে ৫২০ টা অয়েব ডিরেক্টরী আছে, আর এখানে ২৩ টা ব্লগ ডিরেক্টরী।
১৯। বড় টেক নিউজ গুলো নিয়ে সবার আগে পোস্ট দেয়ার চেষ্টা করুন। তাতে টেকচার্চ বা অন্য কোন ব্লগ নিউজ করার সময় আপনার ব্লগ কে সার্চ হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। এরকম একটা লিংক পেলেই গ্রেট!
২০। ব্লগ নিচের মধ্যে থাকা আমাজন প্রোডাক্টের রিভিউ করতে পারেন। রিভিউতে ব্লগের লিঙ্ক দিয়ে দিবেন।
২১। সোশ্যাল বুকমার্কিং সাইট গুলোতে ব্লগ সাবমিট করুন। একসাথে অনেকগুলো বুকমার্কিং সাইটে সাবমিট করতে এটা দেখুন
২২। স্পাইসি পেজ এ ব্লগ প্রমোট করুন।
২৩। ব্যতিক্রমী ক্রিয়েটিভ কিছু করুন ব্লগে।
২৪। বড় ব্লগার দের ইন্টারভিউ প্রকাশ করতে পারেন।
২৫। প্রতিষ্ঠিত ব্লগারদের অনেকেই আপনার ব্লগ রিভিউ করবে লিংকব্যাকের বিনিময়ে। আপনি তাদের এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করে দেখতে পারেন।
২৬। আর ব্লগে ট্রাফিক আনার পর ধরে রাখার জন্য ইন্টার্নাল লিংকিং করুন। এক পোস্টে রিলেটেড অন্য পোস্টের লিংক যুক্ত করা।
২৭। ব্লগে সুন্দর ছবি, গ্রাফিক, ইনফোগ্রাফিক্স ব্যবহার করুন।
২৮। ফটো শেয়ারিং সাইট গুলো তে ফটো সাবমিট করে লিংক দিতে পারেন ব্লগের।
২৯। ব্লগের কন্টেন্ট আমি মনে করি তিন ধরনের। যেমন-
১। কিলার পোস্ট- প্রচুর তথ্য যুক্ত। আপনার ব্লগের মেইন পোস্ট এগুলো। সপ্তাহে একটা দিলে যথেষ্ট।
২। কিলার পোস্টের লিংক যুক্ত পোস্ট- এগুলো ছোট পোস্ট। এগুলোতে সামান্য কিছু কথা, দু একটা টিপস এবং কিলার পোস্টের লিংক যুক্ত থাকে।
৩।  পুনম পান্ডে পোস্ট :D । এগুলো নেটের বা সাম্প্রতিক নিউজের ব্রেকিং নিউজ গুলো নিয়ে ছোট পোস্ট। সাধারনত বড় কোন নিউজ সাইটের লিংক যুক্ত থাকে। এগুলো মাঝে মাঝে প্রচুর ট্রাফিক আনতে পারে।
(পুনম পান্ডে নাম দিলাম বলে কেউ আবার ১৮+ মনে করবেন না :( )।
এই তিন ধরনের পোস্ট ই করতে হবে।
৩০। বিভিন্ন ফোরামে একটিভ থাকুন। সিগনেচারে ব্লগের লিংক ব্যবহার করবেন ঠিক আছে। তবে মাঝে মাঝে এংকর টেক্সট পরিবর্তন করে দিতে পারেন।
এই ৩০ টার লিস্ট করলাম। এর সবকটি যে করতে হবে তা না।  যেগুলো করবেন ভালোমত করার চেষ্টা করুন। ট্রাফিক পাবেন।
also here

গ্রামের নাম ঝাউডগী

গ্রামের এক গুচ্ছ চোখ-ধাঁধানো ছবি
ঝাউডগী গ্রাম, কুশাখালী ইউনিয়ন, লক্ষ্মীপুর সদর, লক্ষীপুর
শহরের যান্ত্রিকতা থেকে বাঁচতে কিছুক্ষণ চোখ বুলিয়ে আসা যায় গ্রামের এই ছায়া সুনিবিড় পরিবেশের ছবির প্রতি।